× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

উজানের ঢল

বাড়ছে চার নদীর পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ফেনী ও লালমনিরহাট প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৫ ২১:১৫ পিএম

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৫ ২১:৩১ পিএম

বাড়ছে চার নদীর পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে লালমনিরহাটের তিস্তা ও ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ফেনীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একাধিক ভাঙনস্থান দিয়ে পানি ঢুকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানি প্রবেশ অব্যাহত ছিল। অন্যদিকে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গত ৮ জুলাই থেকে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় তিনটি নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৪১টি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। তার মধ্যে ছয়টি স্থানে মেরামতকাজ শেষ হয়েছে। ২৮টি স্থানে কাজ চলমান। ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রবিবার রাত থেকে নদীর পানি আবারও দ্রুতগতিতে বাড়তে শুরু করে। এতে একাধিক ভাঙনস্থান দিয়ে পানি ঢুকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গেল বছরের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায়ও মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের শতাধিক স্থানে ভেঙেছিল। পরে ২০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দে বাঁধগুলো মেরামত করা হলেও বছর না পেরোতে আবারও ভাঙছে। এসব স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করে পরশুরামের পশ্চিম অলকা, পূর্ব অলকা, নোয়াপুর, চিথলিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ও ফুলগাজীর কিছু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পাউবোর যথাযথ তদারকি ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বাঁধ ভেঙে প্রতিবছর মানুষকে এমন দুর্ভোগে পড়তে হয় বলছেন তারা।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, ফেনীতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এখানে বৃষ্টি না হলেও ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এজন্য নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। 

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। দুপুর ১টার দিকে মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ১২ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। দ্রুত পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এতে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল; তবে সোমবার দুপুরের পর তা বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

সোমবার পাউবো বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নদীগুলোর পানির সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য আগামী দুদিন এসব নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তা বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে লালমনিরহাট জেলার নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হ‌তে পারে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধায় অবস্থিত তিস্তার ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১.৮০ মিটার, যা বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কাউনিয়া পয়েন্টে পানির সমতল ২৯.১৩, যা বর্তমানে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ডালিয়া ব্যারাজের লেভেল পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাত থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানির চাপ বাড়তে থাকায় ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রাখা হয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, তিস্তার পানি বাড়ছে। পানি বিপদসীমায় পৌঁছতে পারে। তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা