গোপালগঞ্জে সহিংসতা
গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৫ ২১:১২ পিএম
গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তিনজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে জেলা শহরের পৌর কবরস্থান থেকে ইমন তালুকদার ও রমজান কাজী এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী কবরস্থান থেকে সোহেল রানা মোল্লার লাশ তোলা হয়।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে ইমন তালুকদারের লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল মুন্সি। আর রমজান কাজীর লাশ তোলার সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রন্টি পোদ্দার। লাশ দুটি সুরতহাল রিপোর্ট শেষে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে ওই কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।
এর আগে বুধবারের সংঘর্ষে নিহত দীপ্ত সাহাসহ চারজনের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন ও দাহ করা হয়। এদিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রমজান মুন্সি গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
রমজান কাজী হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই মো. মুরাদ হোসেন সুরতহাল রিপোর্টে লাশের ডান কাঁধে গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। ইমন তালুকদার হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই শহিদুল ইসলাম সুরতহাল রিপোর্টে লাশের বাম ঊরুতে গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মির সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, কবরস্থান থেকে তিনটি লাশ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য গত রোববার গোপালগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অবেদন করা হয়। চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিম লাশ তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
এ ছাড়া টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী মোল্লাবাড়ি কবরস্থান থেকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার মারুফ দস্তগীরের (ভূমি) উপস্থিতিতে সোহেল রানা মোল্লার লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার রাতে গোপালগঞ্জ সদর থানায় চারটি মামলা করে পুলিশ। এতে ৫ হাজার ৪০০ অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীকে আসামি করা হয়।