সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৫ ২১:৪৯ পিএম
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৫ ২১:৫৮ পিএম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ-কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা সংযোগে নির্মিত তিস্তা সেতুকে ‘শরিয়তুল্যাহ মাস্টার নামে তিস্তা সেতু’ নামকরণের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
রবিবার (২০ জুলাই) দুপুরে গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (গানাসাস) সামনে শহরের প্রধান সড়কে এ দাবি বাস্তবায়নে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করে এলাকাবাসী। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন শরিয়তুল্যাহ মাস্টার ‘তিস্তা সেতু’র নামকরণ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শামীম মন্ডল, সদস্য সচিব শাহিন মিয়া, ডা. ফুয়াদ ইসলাম, শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, শিক্ষার্থী রত্মা আক্তার, জিল্লুর রহমান, আ. হালিম, আ. হাকিম প্রমুখ।
বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষক সোসাইটির চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এম শরিফুল ইসলাম এতে অংশ করে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
তিস্তা সেতুর স্বপ্নদ্রষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক আ ব ম শরিয়তুল্যাহ মাস্টারের প্রতি সুন্দরগঞ্জ তথা গাইবান্ধাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নবনির্মিত হরিপুর-চিলমারী তিস্তা সেতুর নাম ‘শরিয়তুল্যাহ মাস্টার তিস্তা সেতু’ ঘোষণার দাবি জানান।
এ নিয়ে কথা হলে শরিয়তুল্যাহ মাস্টার বলেন, ১৯৯৫ সালে যখন একাকী তিস্তা সেতু নির্মাণের দাবি তুলে ধরে লিফলেট প্রদানসহ নানাভাবে সংগ্রাম চালাতে থাকি; তখন থেকে দীর্ঘ ৩০ বছর অনেকেই টিটকারি, তিরস্কার করত। তবু থেমে থাকিনি। কারণ প্রেসিডেন্ট নাসের যদি থেমে যেতেন তবে মিসরের মানুষ আজও সেই ভয়াল দুঃখ-কষ্ট থেকে পরিত্রাণ পেত না।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। শিডিউল মোতাবেক অর্থছাড় দেওয়ার পর ২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।
১৪৯০ মিটার দীর্ঘ তিস্তা সেতু, শহরমোড় নামক স্থানে তিস্তার শাখা নদীর ওপর আরও ৯৬ মিটার দীর্ঘ হাতিরঝিলের ন্যায় একটি আর্চব্রিজসহ ৮০ কিলোমিটার অতিরিক্ত সড়ক উন্নয়ন, সংশ্লিষ্ট মাটির কাজ, জমি অধিগ্রহণসহ সম্পূরক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে দাতা সংস্থা সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের (এসএফডি) প্রদেয় ৬৩২ কোটি ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ২৯৩ কোটি। দাতা সংস্থা এসএফডির কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন এলজিইডির সাবেক প্রকল্প পরিচালক/চিফ ইঞ্জিনিয়ার শহিদুর রহমান প্রামাণিক। প্রকল্পটি নির্মাণে কাজ করছে চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে প্রথমবারের মতো এটিই প্রথম বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলো।
২ দফা পিছিয়ে চলতি বছরের আসন্ন ২ আগস্ট সম্পূরক প্রকল্পটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিদিনের বাংলাদেশে ‘তিস্তা সেতু প্রকল্প নিয়ে সংশয়, দেবে গেছে স্প্যান’ শিরোনামে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর সংবাদ প্রকাশিত হয়। ৯৬ আর্চব্রিজের স্প্যান দেবে যাওয়াসহ সম্পূরক প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতির লাঘব হয় ও নির্মাণকাজের গতি বৃদ্ধি পায়। এতে ৯৬ মিটার আর্চব্রিজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার গা ঢাকা দেন। তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলাম নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বিপুল পরিমাণ টাকাসহ আটক হন। উপজেলা প্রকৌশলীকে বদলি করা হয় অন্যত্র। ২০২৩ সালের জুন মাসে চলাচলের জন্য ব্রিজটি খুলে দেওয়ার সময়সীমা অতিক্রমের কারণসহ নানাদিক উল্লেখ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।