রংপুর অফিস
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৫ ২১:৪৫ পিএম
রংপুর নগরীর সিও বাজারে একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণে সেলিম রেজা (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৩ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার (১৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর মেসার্স সিও বাজার এলপিজি ফিলিং স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, গত সপ্তাহেই সিও বাজার এলপিজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস লিকেজের খবর পেয়ে তারা সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে শনিবার সকাল থেকে ট্যাংকের মেরামত কাজ চলছিল এবং দুপুর ১২টার দিকে ওয়েল্ডিংয়ের সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ট্যাংকটি ছিন্নভিন্ন হয়ে উড়ে গিয়ে পাশের কাউন্টারে পড়ে।
বিস্ফোরণের ফলে স্টেশনে থাকা প্রায় ১৩টি কার ও অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাস্তার একটি যাত্রীবাহী বাস, আশপাশের বাড়ির টিনের ছাউনি এবং একটি বহুতল ভবনের জানালাও ভেঙে পড়ে। ট্যাংকের ওপরের পাকা কাঠামো ধসে পড়ে এবং কিছু লোহার অ্যাঙ্গেল গিয়ে পড়ে পাশের বিজিবি রংপুর রিজিয়নের গাছে। বিস্ফোরণের পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ কাজী মো. আতাউর রহমান জানান, আহতদের মধ্যে সেলিম রেজা নামে এক ব্যক্তি হাসপাতালে মারা গেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের মধ্যে রয়েছেন এক অজ্ঞাত কিশোর (১৬), ছালেক শাহ (৬৫), তারাজুল (৪৫), আলমগীর (২২), সোহেল (৩৭), বিপুল (৫২), রফিক (৩৫), সোহাগ (২৭), বকুল (২৪), মজিবর (৪৫), এক অজ্ঞাত পুরুষ, সাদমান (১৮) ও রোজী (৫০)। তাদের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
বিস্ফোরণের পর সিও বাজার এলাকা ও রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে ব্যাপক জনসমাগমের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
স্থানীয় বাসিন্দা মমিনুর রহমান বলেন, ‘বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়, ঝাঁকুনিতে বাসার টিনের চাল, টিভি, ফ্রিজ সব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’
এক পথচারী আমিনুল ইসলাম জানান, ‘আমি পাশের দোকানে চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণে ভীত হয়ে যাই। পাম্পটি গত কয়েক দিন ধরে বন্ধ ছিল। এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক হতে হবে।’
রংপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক বাদশা মাসউদ আলম বলেন, ‘দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে যাই। তখন আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল এবং আগুনও নিভে গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক মেরামতের সময় কোনো চাপ বা গ্যাস জমে থাকায় এই বিস্ফোরণ ঘটে।