বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি
দিনাজপুর ও পার্বতীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৫ ২১:১২ পিএম
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৫ ২১:১৩ পিএম
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ভয়াবহ দুটি দুর্ঘটনায় এক চীনা প্রকৌশলী নিহত ও এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় কয়লা খনির ভূগর্ভস্থ ১৩০৯ নম্বর ফেজে হাইড্রোলিক্স জগের নিচে চাপা পড়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান চীনা শিফট ম্যানেজার মি. ওয়াং জিয়াং গো (৫৬)।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মাইনিং ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান মোহাম্মদ জাফর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর আমরা ওয়াং জিয়াং গোকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
চীনা প্রকৌশলীর মৃত্যুর ঘটনায় খনির কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কয়লা উত্তোলন কার্যক্রমসহ যাবতীয় মেশিনপত্র বন্ধ রয়েছে। শোক পালন করছেন খনিতে কর্মরত চীনা ও অন্যান্য বিদেশি শ্রমিকরা।
একই দিন দুপুরে খনির পার্শ্ববর্তী চৌহাটি গ্রামে আরেকটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। খনির পরিত্যক্ত ডেটোনেটর বিস্ফোরণে ইলিয়াস আলী (১০) নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়। তার ডান হাতের তিনটি আঙ্গুল উড়ে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পেয়েছে।
ইলিয়াস বড়পুকুরিয়া খনির পাশে চৌহাটি গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
স্থানীয় বাসিন্দা মোমিনুল ও রবিউল জানান, কয়লা খনির পূর্ব পাশে প্রাচীরঘেঁষে থাকা ডাম্পিং এলাকায় খনির বিভিন্ন বর্জ্য ফেলা হয়। কয়লা, ধাতব পদার্থসহ কিছুর সন্ধানে এলাকার লোকজন ওই ডাম্পিং এলাকায় প্রবেশ করে বর্জ্যের ভেতরে পাওয়া জিনিসপত্র নিয়ে তা বিক্রি করে।
মঙ্গলবার শিশুটি ডাম্পিং এরিয়া থেকে একটি ধাতব বস্তু কুড়িয়ে এনে মোবাইলের নষ্ট ব্যাটারির সঙ্গে সংযোগ দিলে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহত শিশুর বাবা আশরাফুল ইসলাম জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখেন ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাচ্ছে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত ডেটোনেটরগুলো সাধারণত ব্যবহার শেষে ডাম্পিং এলাকায় ফেলা হয়। তবে কিছু অবিস্ফোরিত ডেটোনেটর রয়ে যেতে পারে। ইলেকট্রিক চার্জের সংস্পর্শে এলে সেগুলো বিস্ফোরিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তিনি আরও বলেন, পুরো ডাম্পিং এরিয়া কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা। এর পরও কেউ কেউ সেসব কাঁটাতার ফাঁক করে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন কিছু নিয়ে যায়। ঘটনার তদন্তে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আহত শিশুটির পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।