× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভোলা হানাদার মুক্ত হয়েছিল এই দিনে

ভোলা সংবাদদাতা

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ০৯:৫৪ এএম

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ১০:২২ এএম

ভোলায় অবস্থিত বধ্যভূমি। প্রবা ফটো

ভোলায় অবস্থিত বধ্যভূমি। প্রবা ফটো

আজ ১০ ডিসেম্বর  ভোলা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে হানাদার মুক্ত হয়ে রচিত হয়েছিল ভোলায় প্রথম স্বাধীনতার ইতিহাস। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম ও যুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা ভোলার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে ভোলা থেকে পালিয়ে যায়। আর তখনি পুরো ভোলার মানুষ আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়েন। স্বাধীনতার ৫১ বছর পর সে স্মৃতি আজও মনে পড়ে ভোলার সাহসী সৈনিকদের।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভোলা শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস চত্বর দখল করে পাক-হানাদার বাহিনী ক্যাম্প বসায়। সেখান থেকে এক এক করে চালায় পৈশাচিক কর্মকাণ্ড। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী নিরীহ মানুষদের ধরে এনে হত্যা করা হয়। লাশগুলোও দাফন করা হয় সেখানে।

এছাড়াও ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারের ধরে এনে হত্যা করে তেতুলিয়া নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় তেতুলিয়ার পানি।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা বহু নারীকে ক্যাম্পে ধরে এনে রাতভর নির্যাতন করে সকাল বেলা লাইনে দাঁড় করিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তৎকালীন সময়ে অগনিত মানুষ মারা যায় ওই হানাদার বাহিনীর হাতে। তাদের গণকবর দেওয়া জায়গাটি এখন বধ্যভূমিতে রূপান্তর করা হয়েছে।

১৯৭১ সালে দেশ রক্ষায় সারাদেশের মতো ভোলাতেও চলে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। সরকারী স্কুল মাঠ, বাংলা স্কুল, টাউন স্কুল মাঠ ও ভোলা কলেজের মাঠের কিছু অংশে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ শুরু হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাক হানাদার বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয় ভোলার ঘুইংঘারহাট, দৌলতখান, বাংলাবাজার, বোরহানউদ্দিনের দেউলা ও চরফ্যাশন বাজারে। ওই সব যুদ্ধে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেন। পাশাপাশি বহু পাক সেনাও মারা যায়।

অবশেষে ১০ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে টিকে থাকতে না পেরে ক্যাম্প থেকে লঞ্চযোগে পাক বাহিনী পালিয়ে যায়। ওই দিনই ভোলার আকাশে উড়ানো হয় স্বাধীন দেশের পতাকা। ভোলা পরিণত হয় উৎসবের শহরে। রচিত হয় এক নতুন ইতিহাস।

ভোলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার শফিকুল ইসলাম বলেন, ৯ ডিসেম্বর আমরা মুক্তিযোদ্ধারা ভোলা ওয়াপদা এলাকায় চারদিক থেকে পাক হানাদের ঘিরে ফেলি, এক পর্যায়ে তারা যখন দেখলো তাদের মুভ করার মত কোন অবস্থান নেই তখন ভোর রাতের দিকে গুলিবর্ষণ করতে করতে তারা পালিয়ে যায়। তাছাড়া লঞ্চযোগে পালিয়ে যাওয়ার সময় চাঁদপুর এলাকায় মিত্রবাহিনীর বিমান হামলায় পাক সেনাদের লঞ্চটি ডুবে যায়।

তিনি আরও জানান, যুদ্ধের সময় আমরা মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি, তারা আমাদের আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে, সেটা আমাদের চিরদিন স্মরন থাকবে।

প্রবীন সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধের সময় ভোলা ওয়াপদা ভবন দখল করে পাক-হানাদাররা শত শত মুক্তিকামী মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতন করে হত্যা করে। সেখানে অনেক নারী নির্যাতন হয়েছে। সে সমস্ত স্মৃতি আমরা আজও ভুলতে পারিনি। জীবন বাজি রেখে ভোলার অনেক মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করে ভোলাকে হানাদার মুক্ত করেছিল সেদিন।'

এদিকে, ভোলা মুক্ত দিবস উপলক্ষে সকালে জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে র‌্যালি ও আলোচনাসভাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা