পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৫ ২০:৪৫ পিএম
আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৫ ২০:৪৮ পিএম
পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় দুই বছর বয়সি ছেলের গলায় ছুরি ধরে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার একটি চা-বাগান সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই গৃহবধূকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই গৃহবধূ ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
এ ঘটনায় শনিবার (৫ জুলাই) বিকালে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। এর আগে গতকাল সকালে উপজেলার জগদল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেনÑ সদর উপজেলার পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের জগদল বাজার এলাকার জনি ইসলাম (২৭) বিপ্লব হোসেন (২৫), মকছেদুল ইসলাম (৩৩) এবং সাতমেড়া ইউনিয়নের বদিনাজোত এলাকার সাদেকুল ইসলাম (২৮)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার একটি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন ওই গৃহবধূ। গত শুক্রবার রাতে বাসা থেকে ইজিবাইক যোগে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নে বাবার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। তিনি সদর ইউনিয়নের তিনমাইল সুরিভিটা এলাকায় পৌঁছলে তার ইজিবাইকের পেছনে থাকা আরেকটি ইজিবাইকের পরিচিত চালক নাম ধরে ডাকতে থাকেন। পরে থামতেই তাকে জনিসহ ছয়জন সড়কের পাশের একটি চা-বাগান সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে শিশু সন্তানের গলায় ছুরি ধরে ওই গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন তারা। ধর্ষণের একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়ে থাকেন ওই গৃহবধূ। পরে স্থানীয় একটি সড়কের পাশে তাকে ফেলে পালিয়ে যান ধর্ষকরা। পরে ৯৯৯ এ খবর পেয়ে শুক্রবার রাত ১টার দিকে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছোট্ট ছেলের গলায় ছুরি ধরেছিল তারা। তখন আমি নিরুপায় হয়ে পড়ি। চিৎকার করতে চাইলে আমাকে তারা ভয়ভীতি দেখায়। পরে একে একে ছয়জন আমাকে ধর্ষণ করে। চারজন পরিচিত আর দুইজন অপরিচিত। আমি ধর্ষণের শিকার হলাম এখন আমার কাছের লোকজন আপসের জন্য চাপ দিচ্ছে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবুল কাশেম বলেন, ‘রাতে পুলিশ অচেতন অবস্থায় এক নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ধর্ষণের বিষয়টি পরীক্ষার পরে জানা যাবে। আপাতত তিনি শারীরিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছেন।’
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, শুক্রবার রাতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশের একটি টহল দল পৌঁছে। সেখানে অচেতন অবস্থায় এক নারী এবং তার সঙ্গে থাকা একটি শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ওই নারীর জ্ঞান ফিরলে তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানান। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।