ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৫ ১৭:১৭ পিএম
প্রবা ফটো
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা মনে করি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা এখানো বিলোপ হয়নি। আগের সিস্টেম রয়ে গিয়েছে। সেই সিস্টেমের বিলুপ করে নতুন দেশ গঠনের জন্যই আমাদের এই নতুন পার্টি (এনসিপি) এবং কর্মসূচি (দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা)। জাতীয় নাগরিক পার্টির কার্যক্রম সারাদেশেই চলছে।’
শুক্রবার (৪ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকায় বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবিতে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’য় অংশগ্রহণ করে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র, মৌলিক সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং নতুন সংবিধানের জন্য আমরা লড়াই করছি। তাই অবশ্যই জুলাই-আগস্টের মধ্যে জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র দিতে হবে এবং এর সাংবিধানিক ভিত্তি থাকবে জুলাই ঘোষণাপত্রে। যে কারণে দেশের হাজারো মানুষ রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, আমরা তাদের স্মরণ করতে চাই। তাদের আত্মত্যাগ ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই বাংলাদেশ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক সমাজ অবহেলিত রয়েছে। তারা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। আমরা সেই কৃষকদের জন্য কাজ করতে চাই। সেই কৃষকের সন্তানেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। তারাই কিন্তু এই গণঅভ্যুত্থান শুরু করেছিল। ফলে কৃষকের সন্তান ও কৃষকের মাটি ঠাকুরগাঁও থেকেই আমরা আমাদের নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্নের কথা বলছি সেই দেশে গড়তে চাই।’
সীমান্ত হত্যা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, ঠাকুরগাঁও সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমান্ত হত্যা একটি বড় সমস্যা। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বাংলাদেশের নাগরিকদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। দেশের মানুষের মানবাধিকার হরণ করে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখি ভারতে যারা মুসলিম রয়েছে তাদেরকে অবৈধ অভিবাসী বলে বাংলাদেশে পুশইন করছে।’
যেকোনো মূল্যে এসব বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘এটা হাসিনার বাংলাদেশ নয়। গণঅভ্যুত্থানের পরে এটা ছাত্র-জনতার বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পন্থীদের হাতে বাংলাদেশ চলবে। ফলে এই সীমান্ত হত্যা আমরা যেকোনো মূল্যে বন্ধ করব এবং উত্তরবঙ্গে ঠাকুরগাঁওসহ যেসব অবহেলিত জেলা রয়েছে, সেখানে কোন ধরনের আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকবে না। শিক্ষা স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রয়োজন। উন্নয়ন শুধু ঢাকার উন্নয়ন হবে না বরং প্রান্তিক পর্যায়ের জেলা গুলোসহ সকল জেলাগুলোর উন্নয়ন যেদিন হবে সেদিনই আমরা প্রকৃত উন্নয়ন হিসেবে গ্রহণ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ রেখে ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়ন সহ মর্যাদার বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
এসময় সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ ঠাকুরগাঁও জেলার স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।