ঝিনাইদহ সীমান্ত
ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৫ ১৭:২৩ পিএম
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৫ ১৭:৩৩ পিএম
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে মানব পাচার এবং চোরাচালান পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। চলতি বছরের মাত্র মে ও জুনের মধ্যে এই সীমান্ত এলাকা থেকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৭২০ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সময়ে জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালান পণ্য। এই পরিসংখ্যান শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নয়, বরং একটি ভয়াবহ মানবিক সংকটের ইঙ্গিতও বহন করে।
৫৮ বিজিবি মহেশপুর ব্যাটালিয়ন জানায়, ১ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিজিবির নিয়মিত অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩০৪ জন ছিলেন যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে ফিরে আসছিলেন। এদের মধ্যে ১০০ জন নারী, ১০৫ জন পুরুষ এবং ৯৯ জন শিশু ছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় আটক করা হয়েছে ৪১৬ জনকে। এদের মধ্যে নারী ১৮০ জন, পুরুষ ১২৯ জন এবং শিশু ছিল ১১৭ জন। আটকদের মধ্যে আরও ছিলেন ৪ জন দালাল, ৩ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ৪ জন মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
এই সময়কালে বিজিবি বিপুল পরিমাণ মাদকও উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে ১,১২৮ বোতল ভারতীয় মদ, ১,৬৯৫ বোতল ফেনসিডিল, ১৪,৮৯৭ পিস ইয়াবা, ২ কেজি ২৭ গ্রাম হেরোইন, ১ কেজি ৪৩০ গ্রাম কোকেন, ১০,৩৯০টি ভায়াগ্রা ট্যাবলেট এবং প্রায় ২০ কেজি গাঁজা।
এ ছাড়াও জব্দ করা হয়েছে ১১টি স্বর্ণের বার, যার মোট ওজন ১ কেজি ৫২৭ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। উদ্ধারকৃত অন্যান্য চোরাচালান পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১২৯ বক্স আতশবাজি, ভারতীয় ওষুধ, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, চশমা এবং ভারতীয় মুদ্রা।
স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় প্রতিনিয়ত নারী, পুরুষ ও শিশু আটকের ঘটনা একটি গভীর সামাজিক ও মানবিক সংকটের দিকে ইঙ্গিত করছে। তাদের অভিযোগ, পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত দালালরা নানা প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষদের ফাঁদে ফেলছে এবং জীবনহানির ঝুঁকি নিয়েও পাচার করছে।
এ বিষয়ে ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে আমাদের সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করছেন। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।