চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৫ ১৭:১৫ পিএম
আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৫ ১৮:৫০ পিএম
চট্টগ্রামের পটিয়া থানা ঘিরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর জেরে আজও সড়কে নেমেছেন বৈষম্যবিরোধীর নেতাকর্মীরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাতে থানা চত্ত্বরে পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করেছে।
অপরদিকে থানা পুলিশের দাবি, রাত ৯টার দিকে একদল লোক এক ব্যক্তিকে মারধর করতে করতে থানায় ঢুকে পড়ে। এসময় গেটে তাদের থামানো হলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে পুলিশের তিনজন সদস্য আহত হয়েছেন। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার শঙ্কা দেখা দিলে পুলিশ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়।
এ ঘটনার জের ধরে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জায়েদ নূরের অপসারণ দাবি করে আজ সকাল থেকে থানা ফটকে অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একদল নেতাকর্মী। পরে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। দুপুরের দিকে ‘পটিয়া ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা৷
এসময় ‘ওসি তুই স্বৈরাচার, এ মুহুর্তে পটিয়া ছাড়’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’সহ নানা স্লোগান দিচ্ছিলেন তারা।
এতে যোগ দিয়েছেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি।
এখন ওই সড়কের এক পাশে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দাবি, গতকাল রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি দীপঙ্কর তালুকদারকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা এক যুবককে ছাত্রলীগের নেতা বলে মারধর করতে করতে থানা চত্বরে নিয়ে যান। এসময় গেটে তাদের থামানো হলে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় তাদের। একপর্যায়ে গেট থেকে থানার ভেতরে ঢুকে পড়লে তাদের দ্বিতীয় দফা থামানোর চেষ্টা করলে সেখানেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর মধ্যেই থানার ভেতরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তখন পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, এখন পর্যন্ত পটিয়ার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়নি। এ বিষয়ে আমরা সরাসরি ডিআইজির সঙ্গে কথা বলতে চাই। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যব্যস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
জানতে চাইলে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর বলেন, ‘একটা ছেলেকে মারতে মারতে কয়েকজন থানায় প্রবেশ করে। গেটে সেন্ট্রি থামাতে গেলে সেন্ট্রির সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। সেখানে একটা গ্লাস ভাঙা হয়। তখন হাজতে ডাকাতি মামলাসহ বিভিন্ন মামলার সাতজন রিমান্ডের আসামি ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভেতরে (থানার) ঢুকার পর আমাদের অফিসার ফোর্স বিষয়টা কী জানার জন্য তাদের থামিয়েছে। তারা কিছুই শুনছিল না। স্লোগান দিতে দিতে ফোর্সের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করে। ওই সময় থানার পুরো সিকিউরিটি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছিল। তখন ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। থানা থেকে বের হয়ে তারা ইটপাটকেল মারে। রাত ১২টার দিকে দ্বিতীয় দফায় তারা থানায় ঢুকার চেষ্টা করে, তখন অতিরিক্ত ফোর্স আনানো হয়।’
ছাত্রলীগ দাবি করে যে ব্যক্তিকে তারা থানায় এনেছিল তার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাকে আটক করে হাজতে রাখা হয়েছে।’
এদিকে বিকেলে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ব্লকেড কর্মসূচি চলছিল। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দুপুরের পর থেকে সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়ে বৈষম্যবিরোধীদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানালেও বিক্ষোভকারীরা তাতে সাড়া দেয়নি।
বিকেলের দিকে খুলশী এলাকায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় ঘেরাও করা হয়। বৈষম্যবিরোধীদের সড়ক অবরোধে খুলশী জিইসি এলাকা সড়কেও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় ঘেরাও করেছে। আমরা তাদের ওয়েলকার করলাম, বললাম তারা যেন ভেতরে আসে কথা বলে। কিন্তু তাদের দাবি ডিআইজি স্যার রাস্তায় গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এখানে কয়েকজন অতিরিক্ত ডিআইজি স্যারসহ আমরা ভেতরে বসে আছি। এখন তারা থানার বাইরে সড়কে অবস্থান নিয়েছে।’
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত (মঙ্গলবার) রাতে একটা ঘটনা ঘটেছে। এটা নিয়ে কিছু নেতাকর্মী পটিয়া থানার সামনে অবস্থান নিয়েছে। আমাদের পুলিশ সদস্যরা সেখানে সতর্ক আছেন। তাদের আলোচনায় আসার জন্য বলা হয়েছে। আশা করি, অপ্রীতিকর কিছু হবে না, শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে।’