মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৫ ১৮:৩৬ পিএম
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৫ ১৮:৩৯ পিএম
ধানিজমিতে কলা চাষে সফল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের আলাউদ্দিন। তিন বছর আগে বাড়ির পাশে সাড়ে ৬ কেয়ার ধানিজমিতে ১ হাজার ২৫০টি সবরি, আনাজি (স্থানীয়ভাবে কাঁচকলা নামে পরিচিত) এবং সাগর কলার চারা লাগান তিনি।
নিজ জমি ও অন্যের জমি লিজ নিয়ে কলা চাষ করছেন তিনি। ইতোমধ্যে পাইকারদের কাছে দুই দফা কলা বিক্রি করেছেন। তার পথ ধরে অনেকেই কলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
আলাউদ্দিন বলেন, তিন বছর আগে কলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন তিনি। ওই সময়ে প্রায় সাড়ে ৬ কেয়ার জমিতে কলা বাগান গড়ে তোলেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ি অঞ্চলে লেবু, আনারস, কাঁঠাল বাগানের পাশাপাশি কেউ কেউ কলা চাষ করেন। তবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কলা চাষ হয় না। তাই আমি এতে মন দিই। বাগানে প্রায় ১২৫০ কলাগাছ লাগাই। প্রতিটি চারার দাম ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। গাছ লাগানোর ৯ থেকে ১২ মাসের মধ্যে কলা বেচেছি। ইতোমধ্যে দুদফা কলা বেচেছি আমি। এখন প্রচুর কলা ধরেছে। কলা চাষে আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। এ ছাড়া কৃষি বিভাগের সহায়তাও পাইনি। ফলে বাণিজ্যিক চাষাবাদে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তিনি বলেন, জমিতে প্রথমবার কলাগাছের চারা লাগালে ওই কলাগাছ থেকে বংশ বৃদ্ধির ফলে ৩-৪ বছর নতুন করে কোনো কলাগাছ লাগাতে হয় না।
আলাউদ্দিনের কলা বাগানের শ্রমিক মনা বাউরি বলেন, আমি দুই বছর ধরে কলা বাগানে কাজ করছি। আশপাশে কোথাও কলার বাগান নেই। বাগানের কলা বাইরে থেকে এসে অনেকে কিনে নিয়ে যায়। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে বাগান দেখতে আসেন।
স্থানীয় কৃষক সোলেমান মিয়া বলেন, আমার গ্রামের আলাউদ্দিন মিয়া ধানিজমিতে কলা চাষ করেছেন। ফলনও হয়েছে ভালো। এটি অনেকটা অবাক করার মতো বিষয়। আমি কল্পনাও করিনি ধানিজমিতে কলা চাষ সম্ভব। আমি নিজেও তার দেখাদেখি আমার ১৭ শতক জমিতে কলা চাষের জন্য প্রস্তুত করছি। এ বছরই চারা লাগাব।
আলাউদ্দিনের ভাতিজা কলেজ শিক্ষার্থী সাহেল মিয়া বলেন, কলা চাষাবাদের কিছুই আমাদের জানা ছিল না। তবে ইউটিউব দেখে কলা চাষের বিষয়ে অনেক জ্ঞান অর্জন করেছি। আমাদের কাছে অনেক কৃষক আসছেন কলা চাষাবাদের নিয়ম, পদ্ধতি জানতে। আমরা যতটুকু জানি, তা তাদের বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করি। আমাদের দেখে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে অনেকে কলা চাষে ঝুঁকেছেন।