রামেক হাসপাতালে দুদকের অভিযান
রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৫ ২১:৫৬ পিএম
নিজেদের কাজ ফেলে রোগীদের ট্রলি ঠেলে বেড়ান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা। এর বিনিময়ে তারা রোগী ও রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে আদায় করেন টাকা।
বুধবার (২৫ জুন) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাজশাহীর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযানে গিয়ে তাদের হাতেনাতে ধরে। পাশাপাশি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের ভাড়া নিয়ে দৌরাত্ম্য দুদকের নজরে এসেছে। এ দুটি বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান দুদক কর্মকর্তারা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন।
সম্প্রতি রামেক হাসপাতালের আউটডোর ডিসপেনসারির ফার্মাসিস্ট ইনচার্জ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাওয়া এক লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক একটি এনফোর্সমেন্ট টিম গঠন করে। দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, রফিকুল ইসলামের শর্ট স্লিপে সব প্রকার ওষুধের গরমিল আছে। মন্টিলুকাস, ফেকসু, মেটফরমিন, ওরস্যালাইন, মেট্রো, ডায়াগন টু, জিটিএন ও প্যারাসিটামল খরচের সঙ্গে স্লিপের মিল থাকে না। মেইন স্টোরের ফার্মাসিস্ট মীর শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ যাচাইয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইনকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়। টিমের সদস্যরা গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে অভিযান চালান। তারা বেশকিছু নথিপত্রও নিয়ে যান।
অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন বলেন, ‘অভিযানে আমরা স্টোর রুমের খাতা দেখেছি। রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে আমরা কমিশন কাছে প্রতিবেদন দেব।’
অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা ট্রলি পরিচালনা করে। তাদের দৌরাত্ম্য দেখেছি। এ ছাড়া হাসপাতালের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়েও দৌরাত্ম্য চোখে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে এ দুটি ক্ষেত্রে অনিয়ম দেখেছি। আমরা এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দাখিল করব। তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হাসানুল হাসিব বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দুদক পেয়েছে, যারা যারা কনসার্ন আজই তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে তাদের নিজেদের কাজ করতে হবে, সেটা বলা হয়েছে।’ ওষুধ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ রকম ভৌতিক কমপ্লেইন থাকেই। এটা নিয়ে আমরা ভাবছি না।’