দিনাজপুর
হিলি (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৫ ২১:৩৪ পিএম
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৫ ২১:৪৩ পিএম
কোরবানি ঈদে পর থেকে সারা দেশে চালের দাম বাড়ছে। সারা দেশের মতো দিনাজপুরেও প্রকারভেদে প্রতিকেজিতে ৬ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে চালের দাম। বোরোর এই ভরা মৌসুমে চালের এই দর বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছে ভোক্তারা। কিন্তু কেন বাড়ছে চালের দাম? যেখানে এখনও দেশের হাটবাজারগুলোতে বোরো মৌসুমের কাঁচা ধানের গন্ধই যায়নি।
এ ছাড়া এবার বোরোর উৎপাদনও ভালো হয়েছে। এদিকে হিলি বন্দরে ভারত থেকে আমদানিকৃত হাজার হাজার বস্তা চাল মজুদ রয়েছে বিভিন্ন গুদামে। আমদানিকারকরা বলছেন, চাল বেশি দামে আমদানি করা ছিল, বর্তমান দাম বেশি পাচ্ছি, তাই বিক্রি করছি। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বলছেন, যদি কারও লাইসেন্স থাকে তবে সে ৩০ দিনের বেশি চাল গুদামজাত করতে পারবেন না।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকালে হিলি স্থলবন্দরের কিশোর রায়, বেলাল হোসেন, রফিকুল্লাহ, কমল কুমার খইটাল, শরিফুল ইসলাম বাবু ও নবীবুল ইসলামসহ বিভিন্ন আমদানিকারকদের গুদাম ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি গুদামে ভারত থেকে আমদানিকৃত পর্যাপ্ত চাল মজুদ রয়েছে। এসব চাল গত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত আমদানিকৃত। অতিরিক্ত দাম পাওয়ার আশায় এসব চাল তারা গুদামজাত করে রেখেছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বর্তমান ভালো দাম পাওয়ায় চালগুলো বিক্রি করছেন আমদানিকারকরা। প্রায় আড়াই মাস এসব চাল তারা মজুদ করে রেখেছে।
এদিকে হিলি খুচরা চাল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানি ঈদে পর থেকে হু হু করে বেড়ে গেছে সব ধরনের চালের দাম। ভারত থেকে আমদানিকৃত যে সম্পাকাটারি চাল কেজিতে বিক্রি হয়েছিল ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা, বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৭৬ টাকা। দেশি সম্পাকাটারি চালের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৬২ টাকা, বর্তমান তা বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা। স্বর্ণা-৫ চাল বিক্রি হয়েছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা। মিনিকেট চালের কেজি ছিল ৬৪ টাকা বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা।
হিলি বাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ী স্বপন শাহ বলেন, কোরবানি ঈদের আগেও চালের বাজার অনেকটা কম ছিল। ঈদের পর থেকেই সব ধরনের চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মিল মালিকরা বেশি দামে চাল বিক্রি করছে।
হিলি বন্দরের চাল আমদানিকারক নবীবুল ইসলাম বলেন, চালের দাম ছিল না, তাই মজুদ করে রেখেছি। এখন দাম বেড়েছে তাই বিক্রি করছি। লস দিয়ে তো আর বিক্রি করব না, সে কারণে তখন বিক্রি করিনি।
হিলি বন্দরে চাল আমদানিকারক বেলাল হোসেনের ম্যানেজার মানিক মিয়া বলেন, ভারত থেকে আমদানিকৃত চালে বাজার তখন ভালো ছিল না এবং চাহিদাও কম ছিল। যার কারণে বিক্রি কম, এখন দাম বাড়ছে এবং চাহিদাও বেড়েছে।
হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ বলেন, যদি কারও লাইসেন্স থাকে, তবে সে ৩০ দিন পর্যন্ত চাল গুদামজাত করতে পারবে। এর বেশি রাখা অবৈধ। যদি কেউ রাখে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হিলিতে চালের গুদামে অভিযান
বুধবার দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে চালের গুদামে ইউএনওর অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে তিনটি গুদাম সিলগালা করা হয়।
বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৌর শহরে হাকিম মন্ডলের চাল গুদামে অভিযান পরিচালনা করেন হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত রায় ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রষ কর্মকর্তা মো. সোহেল আহমেদ।
মো. সোহেল আহমেদ বলেন, চাল-ডাল মজুদের সময় উত্তীর্ণ ও অবৈধভাবে ধান মজুদ করায় তিনটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। এসব গুদামে ২৭১ টন চাল, ৪৭ টন মসুর ডাল ও প্রায় ২ হাজার টন ধান মজুদ রয়েছে।
এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত রায় বলেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রষ কর্মকর্তা ও পুলিশ নিয়ে এই গুদামে অভিযান পরিচালনা করি। এখানে চাল এবং মসুর ডাল নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সময় ধরে মজুদ রাখা হয়েছে। যেসব ধান পাওয়া গেছে এগুলো এখানে মজুদ রাখার নিয়ম নেই। আমরা এখানকার গুদামগুলো সিলগালা করেছি এবং এ সংক্রান্ত কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।