বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ
অরুপ রতন, বগুড়া
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৫ ১৮:২৮ পিএম
বগুড়া থেকে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন, সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণে বহুল প্রতীক্ষিত ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শফিউর রহমানের সই করা এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বগুড়া হতে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন, সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ নির্মাণ’ প্রকল্পের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুযায়ী মূলধন ব্যয় খাতের অধীন ‘ভূমি অধিগ্রহণ’ বাবদ অর্থ অবমুক্তকরণ করা হলো।
এই বরাদ্দের মাধ্যমে বগুড়াবাসীর বহু দিনের স্বপ্ন পূরণের পথে এক বড় অগ্রগতি হলো। ঢাকার সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন হলে শুধু বগুড়াই নয়, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য খুলে যাবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।
সাধারণ মানুষ মনে করে, বগুড়া-ঢাকা সরাসরি রেল যোগাযোগ বাস্তবায়ন না করায় উত্তরাঞ্চলের মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। ফলে উত্তরাঞ্চলের জনগণকে বিকল্প পথে দীর্ঘ সময় ও অর্থ ব্যয় করে চলাচল করতে হয়েছে।
বর্তমানে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকায় সরাসরি রেলপথ না থাকায় ট্রেনগুলো সান্তাহার, নাটোর ও ঈশ্বরদী হয়ে প্রায় ১২০ কিলোমিটার বাড়তি পথ পাড়ি দিচ্ছে। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনি বেড়েছে যাতায়াত ব্যয়ও। যেখানে সড়কপথে বগুড়া থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে লাগে ৭ ঘণ্টা, সেখানে ট্রেনে লাগে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ৭২ কিলোমিটার। নতুন রেলপথ চালু হলে এই পথ ঘুরে যেতে হবে না, মাত্র ৫ ঘণ্টায় ট্রেনে পৌঁছানো যাবে রাজধানী ঢাকায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ডুয়েলগেজের দুটি রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমটি, বগুড়ার ছোট বেলাইল এলাকা থেকে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন, সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৭৩ কিলোমিটার।
দ্বিতীয়টি, কাহালু স্টেশন থেকে রানীরহাট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার। এই পথটি নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে সান্তাহার-দিনাজপুর বা পার্বতীপুরগামী ট্রেনগুলো বগুড়া স্টেশনে না থেমে সরাসরি চলাচল করতে পারে।
দুটি রেলপথ মিলিত হওয়ার জায়গা রানীরহাটে গড়ে তোলা হবে একটি আধুনিক জংশন। অপর জংশনটি হবে সিরাজগঞ্জে। এ ছাড়া বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথে আরও ছয়টি নতুন স্টেশন স্থাপন করা হবে। এগুলো হলোÑ শেরপুর, আড়িয়াবাজার, ছোনকা, চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ ও কৃষ্ণদিয়া।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজ বলেন, ‘রেলপথ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আমরা আংশিক অর্থ পেয়েছি এবং অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে টাকা বিতরণ শুরু করেছি। আশা করছি প্রকল্পের কাজ এবার অনেক দ্রুতগতিতে এগোবে।’