মৌলভীবাজার ও কুলাউড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৫ ২১:১৭ পিএম
আপডেট : ১৬ জুন ২০২৫ ২১:৫২ পিএম
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা জান্নাত আনজুম (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জুনেল মিয়া (৩৯) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামির স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ আলামতÑ নিহতের বোরকা, স্কুলব্যাগ ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম আপসার এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য।
নাফিসা জান্নাত আনজুম কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের আব্দুল খালিকের মেয়ে এবং স্থানীয় শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে সেদিনই কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এর দুদিন পর গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আনজুমের বাড়ির পাশের ছড়ার ধারে দুর্গন্ধ পেয়ে তার ভাই ও মামা গিয়ে দেখতে পান ঝোপের মধ্যে পড়ে আছে অর্ধগলিত মরদেহ। সঙ্গে সঙ্গে তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কুলাউড়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নোবেল চাকমার নেতৃত্বে ছয়টি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসেন, ওসি গোলাম আপসার ও তদন্ত কর্মকর্তা সুদীপ্ত ভট্টাচার্য এসব টিমের সমন্বয় করেন।
তদন্তে নামার পর পুলিশ নিহতের চলাচলের পথ, স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য, মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং এবং আলামত উদ্ধারের স্থান বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের বাসিন্দা জুনেল মিয়াকে চিহ্নিত করে। গত রবিবার দুপুরে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। আটকের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট ব্রাউজের তথ্য পাওয়া যায়। বিষয়টি পুলিশকে আরও সন্দেহপ্রবণ করে তোলে। এরপর দীর্ঘ ৮ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।
আসামি জুনেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, নিহত আনজুম তার বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুল ও প্রাইভেটে যাতায়াত করত। সেই সুযোগে সে আনজুমের ওপর নজর রাখত। ঘটনার দিন ১২ জুন সকালে আনজুম প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফেরার পথে কিরিম শাহ মাজার সংলগ্ন নির্জন রাস্তায় জুনেল তার পিছু নেয় এবং পেছন থেকে জাপটে ধরে। আনজুম চিৎকার শুরু করলে সে তার গলা চেপে ধরলে মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়ে। পরে সে ভিকটিমকে মাজারের পাশের একটি ছড়ার ধারে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সে আলামত গুম করতে আনজুমের স্কুলব্যাগ ও এক জোড়া জুতা ঘটনাস্থলের পাশে ঝোপে ফেলে দেয় এবং পরিহিত বোরকা কিরিম শাহ মাজারের উত্তর পাশে কবরস্থানের সীমানার ভেতরে ফেলে রাখে।
পুলিশ জুনেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই রাতেই স্থানীয় ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে আলামতগুলো উদ্ধার করে।