রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৫ ২০:১০ পিএম
আপডেট : ১৫ জুন ২০২৫ ২০:৪৩ পিএম
রাজশাহীর কোল্ড স্টোরেজগুলোতে আলু সংরক্ষণের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ রয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৪ টাকা ধার্য থাকলেও হঠাৎ তা বাড়িয়ে ৬ টাকা ৭৫ পয়সা করা হয়েছে।
এতে কৃষকের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে রাজশাহীর পবা উপজেলায় শতাধিক কৃষক ও ব্যবসায়ীর অংশগ্রহণে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, স্টোরেজ মালিকরা চুক্তিভঙ্গ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে কোল্ড স্টোরেজগুলো বন্ধ রেখেছে এবং কৃষকের আলু ভেতরে নিতে কিংবা বের করতে বাধা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে রবিবার (১৫ জুন) বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত রাজশাহীর পবা উপজেলায় জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ব্যানারে বিক্ষোভ করেছেন শতাধিক আলু চাষি ও ব্যবসায়ী।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে বিঘাপ্রতি আলু চাষে তাদের খরচ হয়েছে ৮৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা। প্রতিবিঘা জমিতে ৪৫ থেকে ৫০ বস্তা আলু পাওয়া গেছে। এক বস্তা আলু স্টোরেজে পাঠাতে খরচ হয়েছে প্রায় ২ হাজার টাকা, অথচ বাজারে এক বস্তা আলুর দাম এখন মাত্র এক হাজার টাকা। প্রতি কেজিতে যেখানে উৎপাদন খরচ পড়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, সেখানে বাজার দর ১৫ থেকে ১৮ টাকা।
আলু চাষি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা আগেই কোল্ড স্টোরেজের সঙ্গে প্রতি কেজি ৪ টাকা হারে চুক্তি করেছিলাম। কিন্তু এখন তারা ৬ টাকা ৭৫ পয়সা দাবি করছে। এভাবে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলে আমরা দেউলিয়া হয়ে যাব।’
আলু ব্যবসায়ী রুস্তম আলী জানান, রসিদ অনুযায়ী ৪ টাকা কেজি ভাড়া ঠিক থাকলেও স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ চুক্তির বাইরে গিয়ে এখন ৬ টাকা ৭৫ পয়সা দাবি করছে। স্টোরেজে গেলে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং আলু বের করতেও দিচ্ছে না।
রাজশাহী জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের মদদে কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা এই ভাড়া বাড়িয়েছে। আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন স্টোরেজ মালিকরা কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্টোরেজে ঢুকতে দিচ্ছে না। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা কঠোর আন্দোলনে নামবে।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার জানান, ‘উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমার কাছে এখনও কোনো পক্ষের অভিযোগ পরিষ্কারভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটি হয়তো একটি ভুল বোঝাবুঝি, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়ে যাবে।’