× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

লবণ সরবরাহে অব্যবস্থাপনা, চামড়া সংরক্ষণ নিয়ে শঙ্কা

সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৫ ১২:০৫ পিএম

লবণ সরবরাহে অব্যবস্থাপনা, চামড়া সংরক্ষণ নিয়ে শঙ্কা

কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে এ বছর সরকার বিনামূল্যে ৩০ হাজার টন লবণ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। কিন্তু শেষ সময়ে এসে লবণ বিতরণের পরিমাণ কমিয়ে ৯ হাজার টন করা হয়েছে। এ ছাড়াও লবণ সরবরাহ ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন মিল মালিকরা। এতে আসন্ন কোরবানির ঈদে লবণের অভাবে পশুর চামড়া সংরক্ষণ নিয়ে সংকটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

অভিযোগ উঠেছে, সরকার ৩০ হাজার টন লবণ সরবরাহের ঘোষণা দেওয়ায় দেশের বিভিন্ন মিল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে লবণের বিক্রি অস্বাভাবিক কমে গেছে। সর্বশেষ ২৮ মে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বরাদ্দপত্রে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কাউকে কম এবং কাউকে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আবার সমিতির প্রভাবশালী সদস্যদের সুবিধাজনক জেলাগুলোতে সরবরাহের অনুমোদন দিলেও অন্যদের দুর্গম ও দূরের জেলাগুলো দেওয়া হয়েছে। এতে লবণ পরিবহনের খরচ ও পরিবহন জটিলতায় অনেকেই লবণ সরবরাহ করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি বৃহস্পতিবার সমিতির একজন সহ-সভাপতি ও সদস্য অনিয়মের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন। এতে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশুর চামড়া সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বড় সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রেজুয়ানুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পশুর চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য সরকার একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ কাজকে বিঘ্নিত করতে চায়। সরকারি ঘোষণার ফলে সারা দেশের ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলো লবণ ক্রয় করেননি। এখন বরাদ্দে অনিয়মের ফলে অনেক মিল মালিক সরবরাহ দিয়ে লোকসানের মধ্যে পড়বেন। সমিতির শীর্ষ নেতাদের কর্মকাণ্ডে অনিয়ম হওয়ায় আমি সমিতির সহ-সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির বলেন, সরকার ৩০ হাজার টনের ঘোষণা দিলেও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন থেকে চাহিদা এসেছে কম। তাই মিলগুলোকে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কেউ এই বিষয়ে আপত্তি জানালে বরাদ্দের পরিমাণ পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মিলারদের অনেকেই সরবরাহ দিতে পারবে না। সেক্ষেত্রে কেউ চাইলে সমিতি কিংবা বিসিকের মাধ্যমে বাড়তি সরবরাহের সুযোগ পাবেন। সরকারের এই উদ্যোগে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি। 

একাধিক মিল মালিকের অভিযোগ, সমিতির সভাপতি নুরুল কবির ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৬৪০ টন লবণ বরাদ্দের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পদ-পদবি ব্যবহার করে সহজ ও কম খরচে পরিবহনের সুযোগ নিতে চট্টগ্রাম শহরে আনুপাতিক হারে বাড়তি লবণ সরবরাহ নিয়েছেন তিনি। যদিও চট্টগ্রামের মিল মালিকদের অধিকাংশ পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লবণ বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে লবণ সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। 

তথ্যমতে, আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৭ মে দেশের ৬৪টি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে ২০ কোটি টাকার আর্থিক মঞ্জুরি জ্ঞাপন ও অথরিটি প্রদান করে। ২২ মে শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দেওয়া অর্থের ভিত্তিতে লবণ মিল মালিক সমিতির সহায়তায় জেলাভিত্তিক লবণ মিলের অনুকূলে সরবরাহের পরিমাণ ও মূল্যসহ তালিকা প্রেরণ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মনজু আরা বেগমের দেওয়া ওই চিঠি ও তালিকা পাওয়ার পর দেশের লবণ মিল মালিক সমিতির সদস্যরা অসন্তোষ প্রদান করে। বরাদ্দপত্র সংশোধন কিংবা জেলা অনুযায়ী পরিবহন খরচ বাড়ানো না হলে অনেকেই লবণ সরবরাহ বন্ধ রাখবেন বলে জানিয়েছেন তারা। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পত্র অনুযায়ী, ঢাকা জেলায় আটটি মিলে সর্বমোট ৬৪০ টন, চট্টগ্রাম জেলার পাঁচটি মিল ৬৪০ টন, রাজশাহী জেলায় পাঁচটি মিল ৩২০ টন, ময়মনসিংহ জেলায় তিনটি মিল ২৪০ টন, রংপুর জেলায় পাঁচটি মিল ৩১০ টন, খুলনায় দুটি মিল ২৫০ টন, বরিশালে তিনটি প্রতিষ্ঠান ২০০ টন, কুমিল্লায় চারটি প্রতিষ্ঠান ২৪০ টন, সিলেটে চারটি প্রতিষ্ঠান ২৮০ টনসহ জেলাভিত্তিক লবণ বরাদ্দের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন খাগড়াছড়ি জেলায় ৫৬ টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে চাহিদা চূড়ান্ত করে সরবরাহ আরও কিছুটা কমানো হয়েছে। জেলাভেদে প্রতিটন লবণের দাম সর্বনিম্ন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৫ শতাংশ ভ্যাট কর্তনের পাশাপাশি প্রতিটন লবণ পরিবহনের জন্য ১ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে প্রভাবশালী মিল মালিকরা যোগাযোগ সুবিধাসম্পন্ন জেলাগুলোর বরাদ্দ নিয়ে পরিবহন খরচ থেকে লবণে বেশি লাভ করবেন বলে অভিযোগ সাধারণ ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের। 

মিল মালিকরা দাবি করেছেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদের আগে ব্যবসায়ী, এতিমখানা, মাদ্রাসা, মসজিদ বাজার থেকে লবণ সংগ্রহ করে। দেশে কোরবানির ঈদে লবণের বিপুল পরিমাণ চাহিদা থাকলেও বিনামূল্যে সরবরাহের ঘোষণায় লবণ বিক্রি হয়েছে যৎসামান্য। এ কারণে মাঠ পর্যায়ে চাহিদার তুলনায় লবণের পরিমাণ অনেক কম। এখন ঘোষণা দিয়ে লবণ সরবরাহের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় কোরবানির ঈদের দিন বা ঈদের পর কয়েক দিন দেশের বাজারে লবণের সংকট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সংকটে লবণের দামও বেড়ে যাওয়ায় সম্ভাবনা দেখছেন লবণ মিল মালিকরা। এজন্য লবণ পরিবহনের খরচ জেলাভেদে পুনর্নির্ধারণ ছাড়াও বরাদ্দের পরিমাণ সংশোধন করার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিসিক উপ-মহাব্যবস্থাপক (লবণ সেল) সরোয়ার হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মিল মালিক সমিতি ও বিসিকের সঙ্গে সমন্বয় করেই লবণ বরাদ্দের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে এই তালিকা প্রদান করা হয়েছে। এতে কেউ যদি মনে করেন বরাদ্দকৃত লবণ সরবরাহ দিয়ে লোকসান হবে এতে বিসিকের কিছুই করার নেই। এক্ষেত্রে বাড়তি ঘোষণা দেয়া হলেও মাঠ প্রশাসনের চাহিদা পাওয়ার পর বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের পরিমাণ কমানো হয়েছে। ঘোষণার ফলে মাঠ পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা লবণ ক্রয় কমিয়ে দেওয়ার ফলে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে সংকট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এরপরও কোনো জটিলতা হলে তা সামাল দেওয়া যাবে।’

 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা