পাবনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৫ ১৬:৪৮ পিএম
পাঁচ মাসের সোহাগীকে বিছানায় শুইয়ে রেখে ঘরের কাজ করছিলেন মা শ্রাবন্তী মন্ডল। কাজের ফাঁকে খড় আনতে বাইরে যান তিনি। কয়েক মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন, বিছানা খালি, বুকের ধন শিশু সন্তান নেই। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। পরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী বড়াল নদের পাড়ে পাওয়া যায় ছোট্ট সোহাগীর নিষ্প্রাণ দেহ।
শনিবার (৩১ মে) সকালে পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সবার মনে প্রশ্ন, কে নিয়ে গেল ঘুমন্ত ছোট্ট সোহাগীকে? কার শত্রুতার বলি হলো শিশুটি।
সোহাগী চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের কমল মন্ডল ও শ্রাবন্তী মন্ডল দম্পতির মেয়ে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, সকাল ৭টার দিকে ঘুমন্ত শিশু সোহাগীকে ঘরের বারান্দায় বিছানায় শুইয়ে রেখে গরুর জন্য খড় আনতে বাইরে যান মা শ্রাবন্তী মন্ডল। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি দেখেন তার শিশু সন্তান সোহাগী বিছানায় নেই। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। একপর্যায়ে বাড়ির অদূরে বড়াল নদের পাড়ে সোহাগীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট সোহাগীর কথা বলতে বলতে প্রায়ই মূর্ছা যাচ্ছেন মা শ্রাবন্তী মন্ডল। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা কমল মন্ডল। এলাকার মানুষ ভীড় জড়িয়েছেন বাড়িতে। আত্মীয়-স্বজন শিশু সোহাগীর বাবা-মাকে স্বান্তনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
বারান্দায় সোহাগীর ঝুলতে থাকা দোলনাটি দেখিয়ে শ্রাবন্তী মন্ডল বলেন, ‘এই দোলনায় এখন কে ঘুমাবে? আপনারা আমার সোহাগীকে এনে দেন।’
বাবা কমল মন্ডলের সন্দেহ, মেয়েকে কেউ ঘর থেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে নদীর পাড়ে ফেলে রেখে গেছে। তাকে দ্রুত খুঁজে বের করতে দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। শিশুটির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।