রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৫ ০৯:৪৬ এএম
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গাজীপুরের শ্রীপুর ও কাপাসিয়া উপজেলায় গরু চুরির ঘটনা ব্যাপক হারে বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে এই দুই অঞ্চলে কৃষক ও খামারিদের ২৩টি গরু চুরি হয়েছে। প্রতিরাতে সংঘবদ্ধ চোরের দল হানা দিয়ে গরু চুরি করছে, যার ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। অনেক কৃষক ও খামারি রাত পার করছেন তাদের গোয়ালঘরে, তবে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ তেমন কোনো কার্যক্রম নেননি বলে অভিযোগ। গরু চুরি রোধে স্থানীয়রা আর কঠোর পদক্ষেপ দাবি করলেও পুলিশের দাবি তারা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্রীপুর ও কাপাসিয়ায় কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে কিছু লাভের আশায় কেউ ২-৪টি আবার অনেকে বেশি করে গরু লালন-পালন করেছেন। সম্প্রতি প্রতি রাতেই কোনো না কোনো বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে শ্রীপুরের গোসিংগারের হায়াতখারচালা (শরীফ বাজার) গ্রামের ইউসুফ আলী প্রধানের বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা কেয়ারটেকার ও তার স্ত্রীর মুখে চেতনানাশক ছিটিয়ে কোরবানির একটি ষাঁড়সহ পাঁচটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ইউসুফ আলী প্রধান জানান, কেয়ারটেকার ও তার স্ত্রী গোয়াল ঘরের পাশের কক্ষেই থাকেন। সে রাতে দুটি ষাঁড়, একটি গাভি ও দুটি বাছুর চুরি হয়। চুরি হওয়া পাঁচটি গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা। ছয় মাস আগেও তার গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সেময় থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার অথবা গরু উদ্ধারে করতে পারেননি।
কেয়ারটেকার কুরবান আলীর জানান, ‘ঘটনার রাতে বাহিরে শব্দ পেয়ে ঘর থেকে দা হাতে বেরিয়ে আসেন তার স্ত্রী। দুই-তিনজন লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পান। এ সময় দাঁড়িয়ে থাকা লোকদের মধ্য থেকে একজন তার স্ত্রীর মুখে চেতনানাশক ছিটিয়ে দিলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনি (কুরবান আলী) বাহিরে এলে চোরের দলের সদস্যরা তার মুখেও চেতনানাশক ছিটিয়ে দিলে তিনিও হারিয়ে ফেলেন। তাদের ছেলে হামিদুল ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখেন উঠানে অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন মা-বাবা। গোয়াল ঘরের দরজা খোলা দেখে এগিয়ে দেখেন পাঁচটি গরুর একটি গরুও নেই। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার পর জ্ঞান ফেরে।’
এদিকে বুধবার (২১ মে) ভোর রাতে শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ (সাত রাস্তা ও বহেড়াতলী) এলাকায় এক রাতে তিন কৃষক আসাদ মিয়া, খোরশেদ মিয়া ও কাঞ্চন মিয়ার সাতটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে।
পৌরসভার লোহাগাছ (সাত রাস্তা মোড়) এলাকার কৃষক খোরশেদ মিয়ার গোয়াল ঘরের সিটকারি কেটে একটি দুধেল গাভি, একটি বকনা এবং একটি বাছুর চুরি করে নিয়ে যায়। একই রাতে পাশের আসাদ মিয়ার গোয়াল ঘর থেকে একটি গর্ভবতী গাভি এবং একটি বকনা বাছুর চুরি হয়ে যায়। ওই রাতেই লোহাগাছ (বহেড়াতলী) এলাকার কাঞ্চন মিয়ার গোয়াল ঘরের তালা কেটে দুটি গরু চুরি করেছে চোরের দল।
কৃষক আসাদ মিয়া বলেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ গাড়ির আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে বরে হয়ে গোয়াল ঘরে গিয়ে দেখি গর্ভবতী গাভি এবং একটি বকনা বাছুর নেই। অপর কৃষক কাঞ্চন মিয়া এবং খোরশেদ মিয়ার বলেন, পুলিশ একটু তৎপর হলেই চুরি হওয়া গরু উদ্ধার এবং সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্যদেরকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
শ্রীপুর থানার ওসি মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, কোনো খামারি বা কৃষক থানায় অভিযোগ দেয়নি। তবে পুলিশ গরু চুরির বিষয়ে শুনেছে। আমরা নিজ ইচ্ছা থেকেই গরু চুরি রোধে টহল বাড়িয়েছি।
এদিকে গত ২৮ মে (বুধবার) রাতে কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলামের গোয়াল ঘর থেকে তিনটি গাভি চুরি হয়েছে। ২৬ মে উপজেলার কপালেশ্বর গ্রামের কৃষক আলম মিয়ার একটি ষাঁড়, নুরুল ইসলামের একটি গাভি এবং বিল্লাল মিয়ার গোয়াল ঘরে থেকে ২টি গাভি চুরি হয়েছে। একই রাতে উপজেলার বামনখলা গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম সিকদারের গোয়াল ঘর থেকে ২টি গাভি, পাশের নবীপুর গ্রামের ছলিম উদ্দিনের গোয়াল ঘর থেকে ২টি গরু, ২৭ মে কান্দানিয়া গ্রামের মনো মিয়ার গোয়াল ঘর থেকে দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু চুরি হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বিল্লাল মিয়া ও নুরুল ইসলাম বলেন, গভীর রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে এসব চুরি সংঘটিত হয়। উপজেলার পাবুর গ্রামের খামারি শাকিল হাসান মোড়ল বলেন, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে গরু চুরি বেড়েছে। আমার খামারে ১০ লাখ টাকা মূল্যের গরু নিয়ে আতঙ্কে রাত পার করেছি।
কাপাসিয়া থানার ওসি জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, গরু চুরির বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।