× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শব্দদূষণে নাকাল নওগাঁবাসী

এম আর ইসলাম রতন, নওগাঁ

প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৫ ১৯:৪২ পিএম

আপডেট : ২৯ মে ২০২৫ ১৯:৫১ পিএম

শব্দদূষণে নাকাল নওগাঁবাসী

নওগাঁ শহরের শব্দদূষণ এখন মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা প্রতিদিন শহরবাসীর জন্য এক নতুন ধরনের যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর গেজেট অনুযায়ী, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্ধারিত বিধিমালা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উচ্চমাত্রার শব্দ মানুষের শ্রবণ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং বাড়ছে শব্দদূষণে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে মাইকের উচ্চশব্দে ঘোষণার পাশাপাশি নির্মাণ কাজের যন্ত্রপাতির বিকট শব্দও শহরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নষ্ট করছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ পড়েছে অসহনীয় অবস্থায়। বিশেষ করে, ছাত্রছাত্রীদের জন্য পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এর প্রভাব শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি বয়ে আনবে, যা পুরো শহরের জন্য একটি গভীর সংকট হিসেবে দাঁড়াবে।

সরেজমিন নওগাঁ শহর ঘুরে দেখা যায়, শহরবাসীর যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো। সেখানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পণ্য, প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তি প্রচারের ঘোষণা প্রচার করা হচ্ছে। এ ছাড়াও মাইকে উচ্চমাত্রায় প্রচার করা হয় ধর্মীও অনুষ্ঠানের প্রচারণা, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এর সঙ্গে আছে বিভিন্ন জনসভার মাইক। মাইকের লম্বা হর্ন অথবা ছোট হর্নে চলছে উচ্চশব্দে এসব প্রচারণা। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন ঘোষক লাগে না, রেকর্ডকৃত ঘোষণা মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে ইজিবাইকের ব্যাটারির সঙ্গে সংযোগ দিয়ে মাইক বেঁধে চলতে থাকে বিরতিহীন। এ ছাড়া ইট ও পাথর ভাঙা মেশিন ও কাঠের আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্র ও টাইলস কাটা মেশিনের বিকট শব্দ যেন অতিসাধারণ। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ যেসব স্থানে মাইক বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও মানছে না কেউ। 

নওগাঁ তেঁতুলিয়া বিএমসি কলেজের অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রতিদিন মাইকের শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। এরা স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, সরকারি অফিস-আদালত কিছুই মানে না। নওগাঁ ফয়েজ উদ্দীন কলেজের শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, শব্দদূষণ এখন এটি নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে।

সাংস্কৃতিক কর্মী কায়েস উদ্দীন বলেন, শব্দদূষণ রোধে আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই। এটি যে কতবড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ যারা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্বে আছেন তারা গুরুত্বই দিচ্ছেন না।

দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া বলেন, শহরে অযথা যত্রতত্র উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ডবক্স বাজানো হচ্ছে। এতে পড়াশোনার সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি অশান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। 

টাইলস মিস্ত্রি জাহাঙ্গীর জানান, যারা টাইলসের কাজ করেন তারা কানে খুব কম শুনতে পান। এতে অপর জনের সঙ্গে জোরে কথা বলার অভ্যাস হয়ে গেছে।

নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নওগাঁ কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নওগাঁ জিলা স্কুলে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের একাধিক অভিভাবক জানান, প্রতিদিন তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে স্কুলে আসেন। তাদের স্কুলে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু অসহ্য হয়ে পড়ে যখন একটির পর একটি মাইক উচ্চ শব্দে প্রচার করতে করতে স্কুলের সামনে দিয়ে যায়।

নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, ২০০৬ সালে শব্দদূষণের গেজেট প্রকাশের পর নতুন করে আর কোনো গেজেট প্রকাশিত হয়নি। সে সময় সব জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় ছিল না। ২০০৬ সালে ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গেজেটে জেলা পর্যায়ের পরিবেশ অধিদপ্তরে অফিস শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কী ভূমিকা রাখবে তার বিশদ উল্লেখ নেই। তবে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের করণীয় বিষয়ে বলা আছে।

নওগাঁ মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (ইএনটি) ডা. মিলন কুমার চৌধুরী বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে শব্দদূষণ মারাত্মক ক্ষতিকারক। উচ্চমাত্রার শব্দ মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করে। চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতার (কগনেটিভ ফাংশন) ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। শব্দদূষণের কারণে রক্তের চাপ বেড়ে যায়। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে। মানুষ যখন ধীরে ধীরে বার্ধক্যে পৌঁছে যায় তখন পরিলক্ষিত হয় শব্দদূষণের মারাত্মক প্রভাব। সব সময় কানে যদি শোঁ-শোঁ ভোঁ-ভোঁ শব্দ হতে থাকে, যাকে চিকিৎসাবিদ্যায় টিনিটাস বলা হয়Ñ যা এতটাই ভয়ংকর যে এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষ আত্মহত্যাও করতে পারে। 

নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ইএনটি চিকিৎসক ডা. মো. তারেক হোসেন বলেন, এখন শব্দদূষণে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এখন ৪০ বছর বয়সেই এই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে পথচারী, ট্রাফিক পুলিশ, টাইলস শ্রমিকসহ উচ্চশব্দযুক্ত মেশিন ও মাইকের শব্দে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা