× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ, তদন্ত বোর্ড গঠন

বরগুনা সংবাদদাতা

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:২৭ পিএম

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:০২ পিএম

নতুন ঠিকানায় ঘর তৈরি শুরু করছেন অভিযুক্ত প্রার্থী। ছবি : প্রবা

নতুন ঠিকানায় ঘর তৈরি শুরু করছেন অভিযুক্ত প্রার্থী। ছবি : প্রবা

বরগুনার বেতাগীতে পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে মিথ্যা ঠিকানা দিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে। একই পদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ একাধিক প্রার্থীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ইউনিট সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করেছে।

উত্তীর্ণ একাধিক প্রার্থী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ২২ নভেম্বর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বরগুনা জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা। এর পরপরই ওই প্রার্থী নতুন ঠিকানায় ঘর তৈরি শুরু করছেন।

বরগুনার পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত বোর্ডের আহ্বায়ক ও পরিচালক (পরিকল্পনা) এবং লাইন ডাইরেক্টর (পিএমই) মোহা. সফিকুর রহমান ১১ ও ১২ ডিসেম্বর সরেজমিন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বর্ণিত সময় ও তারিখ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিত থাকার জন্য চিঠি দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে ২০২১ সালের ১২ আগস্ট জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে আবেদনকারীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ইউনিট/ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পরে গত ৪ নভেম্বর লিখিত ও ৮ নভেম্বর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ওই পদে বেতাগীর বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের পশ্চিম কাউনিয়া গ্রামের হালিম মৃধার মেয়ে মোসা. খাদিজা আক্তার ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে আবেদন করেন। অথচ ওই পদে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ৬ জন প্রকৃত বাসিন্দা মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ৯ নভেম্বর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়ে মোসা. খাদিজা আক্তারের রোল প্রকাশ করা হয়।

চাকরি প্রার্থী সুইটি আক্তারের অভিযোগ, প্রকৃত বাসিন্দা হিসেবে তাকে চাকরি না দিয়ে যিনি ইউনিটের বাসিন্দা নয় তাকে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।

তার দাবি, খাদিজা আক্তার ৪নং ওয়ার্ড তথা ২/খ ইউনিটের বাসিন্দা। এখন তিনি (খাদিজা) চাকরি স্থায়ী করতে ২/ক ইউনিটে নানার জায়গায় ঘর তৈরি করছেন।

অন্য প্রার্থী মোসা. আসমা আক্তার ও মোসা. মুক্তা আক্তার দাবি করেন, তারা যোগ্য হওয়া সত্বেও তাদের বঞ্চিত করে অন্য ইউনিটের বাসিন্দাকে চাকরিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চান।

এ বিষয়ে বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের ২/ক ইউনিটে খোঁজ নিতে গেলে খাদিজা আক্তারের স্থায়ী কোন বসত ভিটা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ঐ এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের সিকদার বাড়ি এলাকায় ধানক্ষেতের পাশে কয়েকজন মিস্ত্রিকে একটি ঘর নির্মাণ করতে দেখা যায়। ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইউনুচ হাওলাদারের ভাষ্যমতে, চাকরির বৈধতা আদায়ের জন্য যে জায়গায় ঘর করা হচ্ছে তা খাদিজার নানা মৃত আনোয়ার আলীর জমি। তার নামে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর ঘরটি তৈরি করা শুরু করেছেন তারা।

এ বিষয়ে মোসা. খাদিজা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে তার মা নুরুন নাহারের দাবি, তারা ৪নং ওয়ার্ডের ভোটার। ৬নং ওয়ার্ডে তার বাবার বাড়িতে জমি নিয়ে ঝামেলা থাকায় সেখানে এখন ঘর তৈরি করছেন। খাদিজা এখন নানা বাড়িতেই থাকেন।

বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম রব শুক্কুর মীর বলেন, খাদিজা ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সেভাবে পরিচয়পত্র ও প্রত্যয়ন নিয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নিয়োগটি ৫নং ও ৬নং ওয়ার্ডের অংশে। এই অংশের প্রার্থীরা আপত্তি তুললে খাদিজা ৬নং ওয়ার্ডের প্রত্যয়ন নিতে আসে। কিন্তু আমি তাকে প্রত্যয়ন দেইনি।

এ বিষয়ে বেতাগী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাকরি নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ইউনিট সরেজমিনে তদন্তে করবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা