সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দুদকের হানা
সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৫ ১৯:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৬ মে ২০২৫ ২০:০৫ পিএম
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের অফিসপ্রধান থেকে শুরু করে নিম্নপদস্থ কর্মচারীরা নিয়মিত অফিস করেন না। হয় অনুপস্থিত থাকেন, না হয় দেরিতে আসেন। এ ছাড়া সরকারিভাবে কেনা এট্রিবায়োটিক ওষুধ ডিসপেনসারি থেকে বেচার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক।
সোমবার (২৬ মে) দুপুরে হাসপাতালে সিলেট দুদকের অভিযানে এমন অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন কর্মকর্তারা।
সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুদকের অভিযান চলে হাসপাতালে। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোরের ওয়াশরুম, খাবারের মান যাচাই-বাচাই করেন তারা। বহির্বিভাগে ডাক্তারের সহকারীরা রোগীর ব্যবস্থাপত্র লেখা, ডিসপেনসারিতে রোগীদের দেওয়া ওষুধ পাওয়ার স্লিপে ডাক্তারের নাম, পদবি, সিল না থাকা, রেজিস্ট্রার খাতায় ও স্টোর রুমে থাকা ওষুধের গরমিল দেখতে পান দুদক কর্মকর্তারা।
অভিযান শেষে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় সিলেটের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার বলেন, ‘হাসপাতালের অফিসপ্রধান থেকে শুরু করে নিম্নপদস্থ কর্মচারীরা নিয়মিত অফিস করেন না। হয় অনুপস্থিত থাকেন, না হয় দেরিতে আসেন। অধিকাংশই ৫০ শতাংশ অনুপস্থিত থাকেন। আজকে (গতকাল) এসে দুজনের অনুপস্থিত পেয়েছি আমরা। এরমধ্যে অফিসপ্রধান তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান ও মেডিকেল টেকনিক্যাল অফিসার আনোয়ার হোসেনকে অনুপস্থিত পেয়েছি। আনোয়ার হোসেন অনুপস্থিত, তার কোনো ছুটির আবেদন নেই। এ বিষয়ে অফিসপ্রধানের দায়িত্বে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে যিনি আছেন, তিনি কিছুই জানেন না। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মৌখিকভাবে আনোয়ার হোসেনকে ছুটি দিয়েছেন। আনোয়ার হোসেন নিয়মিত অফিস করেন না, এই অভিযোগ আমাদের কাছে আছে। এ ছাড়া হাসপাতাল থেকে অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী যখন তখন বের হন, তারা বায়োমেট্রিক ব্যবহার করেন না। এতে তারা কয়টায় বের হয়ে গেলেন, তার কোনো হিসাব নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে সবচেয়ে বড় অভিযোগ পাওয়া গেছে, তা হলোÑ ডিসপেনসারিতে সরাসরি ওষুধ আসে এবং ক্রয়কৃত ওষুধ সংগ্রহ করা হয়। সেখানে অনেক এন্টিবায়োটিক ওষুধ আছে। যেগুলো রেজিস্ট্রার খাতায় এন্ট্রি করা নেই। কিন্তু গোডাউনে অনেক এন্টিবায়োটিক ওষুধের মধ্যে তিন ধরনের এন্টিবায়োটিক ওষুধ পেয়েছি। যেগুলো রেজিস্ট্রার খাতায় এন্ট্রি নেই। এ ছাড়া সুলেমান নামে একজন স্টোরকিপার ছিলেন। তিনি রেজিস্ট্রার মেইনটেইন করেননি। বেসরকারি ওষুধের তালিকা তিনি রেজিস্ট্রার খাতায় এন্ট্রি করতেন, সেই তালিকা আমরা পাইনি। অর্থাৎ গত মে মাসের আগের কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি। কেনা ওষুধের রেজিস্ট্রার নেই। বছরে কমপক্ষে দুই থেকে তিন কোটি টাকার ওষুধ কেনা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশ টাকাই আত্মসাৎ করা হয়। এইটার জন্য সাবেক স্টোরকিপার সুলেমানকে তারা দায়ী করছেন। বর্তমানে যে ওষুধ বিতরণ কর্মকর্তা রয়েছে, তারও অনেক দায় আছে। তার স্টোরে রাখা অনেক এন্টিবায়োটিক ওষুধ পেয়েছি। কিন্তু রেজিস্ট্রার খাতায় এন্ট্রি নেই। তারা এগুলো ফার্মেসিতে বেচে দেন। এর বাহিরে আমরা অনিয়মের অনেক কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। এই কাগজপত্র এবং রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক কনসালটেন্ট বিষ্ণু প্রসাদ চন্দ বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর স্যার, ছুটিতে থাকলে আমাকে দায়িত্ব দেন।’ দুদক টিম হাসপাতাল পরিদর্শনে তিনতলা থেকে চতুর্থ তলা, ষষ্ঠ তলা এবং ডিসপেনসারিতে যান। তারা খাদ্যের মান দেখেন, ডিসপেনসারিতে ওষুধপত্র দেখেন, রেজিস্ট্রার খাতাপত্র দেখেছেন।