× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রায় দুই যুগ পার হলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেই

এএস সফিক, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ)

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৫ ১৮:২৫ পিএম

আপডেট : ২৬ মে ২০২৫ ১৮:৩৬ পিএম

প্রায় দুই যুগ পার হলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেই

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের বরাইদ এলাকায় ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত মুন্নু আবাসন প্রকল্পের ঘর গত ২৩ বছরের বেশি সময় পার হলেও মেরামত করা হয়নি। ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক পরিবার চলে গেছেন।

বাকি পরিবারগুলো অন্যত্র যাওয়ার কোনো জায়গা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। বিএনপির নেতাদের অভিযোগ প্রকল্পটিতে বিএনপির সাবেক এমপির নাম যুক্ত থাকায় বিগত সরকারের আমলে এক টাকাও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

উপজেলা সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে বরাইদ ইউনিয়নের বরাইদ গ্রামে ১.৬৫ একর জমির ওপর সরকারি অর্থায়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি চালু করা হয়। সে সময় বিএনপির স্থানীয় এমপি হারুন-অর-রশিদ খান মুন্নু ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নিজ নামে নির্মাণ করেন। প্রতি সারিতে টিনের তৈরি ১০টি করে ছোট কক্ষের সাতটি দৃষ্টিনন্দন সারি রয়েছে। প্রত্যেক ভূমিহীন পরিবারকে একেকটি কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিশুদ্ধ পানির জন্য প্রতিটি সারির বাসিন্দাদের একটি করে টিউবওয়েল এবং প্রতি পাঁচটি পরিবারের জন্য দুটি শৌচাগার ও একটি গোসলখানা নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়াও আবাসনের বাসিন্দাদের ছেলেমেয়ের সুন্দরভাবে বিয়ে বা যেকোনো অনুষ্ঠানের জন্য রয়েছে কমিউনিটি সেন্টার। 

মুন্নু আবাসনের বাসিন্দারা বলেন, বেশিরভাগ ঘরের চালা ভেঙে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরগুলোতে পানি ঢোকে, বিছানা ভিজে যায়। টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে গেছে, শৌচাগার ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তারপরও বাধ্য হয়ে বসবাস করছেন তারা। দুর্গন্ধময় ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নেই পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। বর্তমানে আবাসনের ১৮টি পরিবারের পানির অবলম্বন ৩টি টিউবওয়েল। মাঝে মাঝে সেগুলোও নষ্ট হলে নিজেদের উদ্যোগেই মেরামত করতে হয়। তাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই।

মুন্নু আবাসনের বাসিন্দা রুবি আক্তার বলেন, ‘ঘর দোয়ার ভাঙগা চুইরা গেছে। পোলাপান (সন্তান) নিয়া থাকা পারি না। কাগজ (পলিথিন) টাঙিনে থাকি। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। আমরা বাইচা আছি নাকি মইরা গেছি উপজেলা থেকে কেউ আমাগো খোঁজ নেয় না।’

আরেক বসিন্দা লতিফা আক্তার বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে বসবাস করছি এই আবাসনে। শুধু বৃষ্টিই না শীতের দিনে কুয়াশাও পড়ে। আস্ত পলিথিন টিনের চালার নিচে দিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্ট করে বসবাস করছি।

মুন্নু আবাসনের বাসিন্দা ও সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, শুরুতে আবাসনে ৭০টি পরিবার বসবাস করত। কিন্তু ঘরগুলো ভেঙে যাওয়ায় এখন ১৮টি পরিবার রয়েছে। বৃষ্টি হলেই ঘরের চালা চুইয়ে পানি পড়ে। যারা বসবাস করছি বেশির ভাগ ঘরেই চালার নিচে পলিথিন টাঙিয়ে রয়েছি।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে উপজেলা প্রশাসনকে সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। তারা আসেন, দেখেন আশ্বাস দিয়ে চলে যান। কিন্তু মেরামত আর হয়নি। ১৮টি পরিবারে শতাধিক মানুষ আছেন। যাদের একমাত্র জীবিকা দিনমজুর। 

এ বিষয়ে বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আব্দুল হাই বলেন, মুন্নু আবাসন প্রকল্পের বেশিরভাগ ঘর জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। ওই আবাসনের বাসিন্দাদের জন্য ঘরগুলো মেরামত করা খুবই প্রয়োজন।

টুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বরাইদ ইউনিয়নের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ খান মজলিশ মাখন বলেন, আমি চেয়ারম্যান থাকা কালে এটি তদারকি করি। টিনের ঘর থাকায় ২৩ বছরে নানা স্থাপনা নষ্ট হয়ে গেছে। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের ১৭ বছরে কোনো বরাদ্দ দেয়নি শুধু বিএনপির এমপির নাম থাকায়। 

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান মোল্লাহ্ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত ২২ মে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করে দিয়েছে সার্বিক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য। আমরা দ্রুত পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেব।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা