সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৫ ১৯:১১ পিএম
আপডেট : ১৯ মে ২০২৫ ১৯:১২ পিএম
ফাইল ছবি
বরাবরের মতোই দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। এবারের ১৯৮তম ঈদুল আজহার জামাতকে ঘিরে থাকছে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়।
ঐতিহ্য অনুসারে তিন দফা গুলি ফুটিয়ে জামাত শুরু হবে ঈদের দিন সকাল ৯ টায়। এতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। মুসল্লিদের আসা-যাওয়ার জন্য এ বছরও থাকবে দুটি স্পেশাল ট্রেন। সোমবার (১৯ মে) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এইসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলোÑ এখানে কোনো সামিয়ানা টানানো হয় না। খোলা আকাশের নিচেই যুগ যুগ ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত। রেওয়াজ অনুযায়ী, ঈদের জামাত শুরুর আগে শটগানের ছয়টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হবে। জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি এবং ১ মিনিট আগে ১টি গুলি ছুড়ে নামাজের জন্য মুসল্লিদের সংকেত দেওয়া হবে।
শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, জামাতকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চার স্তরের নিরাপত্তার পাশাপাশি, পুরো ঈদগাহ মাঠ থাকবে সিসি ক্যামেরার আওতায়। ড্রোন ও ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও র্যাবের জন্য অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হবে ওয়াচ টাওয়ার, প্রস্তুত থাকবে বহু সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক এবং মেডিক্যাল টিম। এবারও শোলাকিয়া দেশবিদেশের লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, ঈদের দিন ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস-১’ ভৈরব থেকে ছাড়বে সকাল ৬টায়, কিশোরগঞ্জ পৌঁছবে সকাল ৮টায়। আবার কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাবে দুপুর ১২টায়, ভৈরব পৌঁছবে দুপুর ২টায়। ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস-২’ ময়মনসিংহ থেকে ছাড়বে সকাল পৌনে ৬টায়, কিশোরগঞ্জ পৌঁছবে সকাল সাড়ে ৮টায়। আবার কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাবে দুপুর ১২টায় এবং ময়মনসিংহে পৌঁছবে বিকাল ৩টায়।
প্রস্তুতি সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল ইসলাম তালুকদার, ইমরানুল ইসলাম, সেনাবাহিনী ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোস্তাফিজ, এনএসআইয়ের সহকারী মো. আলী আকবর হোসেন তামিম, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির রমজান আলী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি রুহুল হোসাইন, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহসহ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।