টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৫ ২০:০৯ পিএম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৫ ২০:১২ পিএম
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো জটিল একটি অস্ত্রোপচারেÑ পূর্ণাঙ্গ ঊরুসন্ধি (Total Hip Replacement Arthroplasty) প্রতিস্থাপনে সফল হয়েছেন টাঙ্গাইলের অর্থোপেডিক সার্জনরা। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এসএম রোকুনুজ্জামানের নেতৃত্বে ৬ জন বিশেষজ্ঞ অর্থপেডিক্স এ অপারেশন সম্পন্ন করেন।
সরকারি হাসপাতালেই এ ব্যয়বহুল অপারেশন কম খরচে সম্পন্ন হওয়ায় যেমন রোগী ও তার পরিবার আনন্দিত, তেমনি চিকিৎসকরাও উচ্ছ্বসিত এই মাইলফলক অর্জনে। এতে করে স্থানীয়ভাবে জটিল হাড়জোড়া সংক্রান্ত চিকিৎসার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। এখন থেকে এই ধরনের অস্ত্রোপচারের জন্য ঢাকাসহ অন্য কোথাও যেতে হবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ফলে খরচ যেমন বাঁচবে, তেমনি ভোগান্তিও কমবে।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে ৬২ বছর বয়সি মহিলার ১২ বছর ধরে ঊরুসন্ধি ব্যথাসহ খুঁড়িয়ে হাঁটা সংক্রান্ত সায়েন্টিফিক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। রবিবার (১৮ মে) সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগ কলেজের মাল্টিপারপাস কনফারেন্স রুমে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে চেয়ারপারসন ছিলেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. তৌহিদুল আলম। কো-চেয়ারপারসন ছিলেন অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এসএম রোকনুজ্জামান। বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাদিকুর রহমান, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস, উপপরিচালক ডা. মো. কামরুল কিবরিয়া, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক ডা. ফখরুল আমিন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন ইন্টার্নি ডা. সায়মা তাসনিম। সেমিনারে সায়েন্টিফিক পার্টনার ছিল ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিকেলস লিমিটেড। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাদিকুর রহমান জানান, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার গলগন্ডা এলাকার জয়নাল আবেদনি খানের স্ত্রী হামিদা বেগম। গত ১২ বছর ধরে হাড় ক্ষয়ের কারণে শারীরিক নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এপ্রিল মাসের শেষদিকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। তার অবস্থা বেশ জটিল ছিল। তার ঊরুসন্ধি প্রতিস্থাপন খুব জরুরি হয়ে পড়ে। এ হাসপাতালে এর আগে এ রকম অপারেশন হয়নি। রোগীর পরিবারও খুব সচ্ছল নয়। পরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এসএম রোকনুজ্জামানসহ একই বিভাগের কয়েকজন সার্জন অপারেশন করতে আগ্রহী হন। চলতি মাসের ৫ তারিখে ২ ঘণ্টাব্যাপী ওই রোগীর অপারেশন হয়।
তিনি বলেন, প্রথম বারের মতো এ অপারেশনটি সফলভাবে করতে পেরে আমরা আনন্দিত। রোগীদের ভোগান্তি ও অর্থের অপচয় রোধ করতে আগামীতেও অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসকদের সহযোগিতায় এ অপারেশন অব্যাহত রাখা হবে। অপারেশন টিমের প্রধান সার্জন ডা. এসএম রোকনুজ্জামান জানান, রোগীটির অবস্থা ছিল জটিল। এ অপারেশনে আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এর মধ্যে প্রধান হলো এ রকম অপারেশন করতে বিশেষায়িত অপারেশন থিয়েটার লাগে। যেটা এখানে ছিল না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে আমরা সেটা অনেকটাই তৈরি করতে সক্ষম হই। এরপর অপারেশন থিয়েটার সঠিক মাত্রায় জীবাণুমুক্ত করতে আলাদাভাবে কাজ করা হয়। এ কাজে চিকিৎসক ছাড়াও নার্স ও অপারেশন থিয়েটারে কাজ করা অন্য সদস্যরাও যথেষ্ট সহযোগিতা করেন। ফলে এ অপারেশন সম্পন্ন করতে সফল হই।
প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেয়ে খুশি হামিদা বেগম। তিনি বলেন, এখন অনেক ভালো আছি। যে ডাক্তার ও নার্সরা আমার চিকিৎসা করেছেন আমি তাদের জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করি।