আতিফ রাসেল, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৫ ১৭:৪৭ পিএম
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় চলছে ধান কাটার ব্যস্ত সময়। কৃষকরা সোনালী ফসল ঘরে তুলতে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর এ সময় সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিÑ ধান কাটার কাঁচি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন উপজেলার কামাররা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ফলদা, নিকরাইল, গোবিন্দাসী, অর্জনা, মাটিকাটা, বলারামপুর, জগৎপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে কামারপল্লীগুলোতে এখন কাঁচি তৈরির ধুম লেগেছে। লোহার কামারশালাগুলোতে হাতুড়ি আর টুংটাং শব্দে মুখরিত চারপাশ। লোহা গরম করে আগুনের তাপে পিটিয়ে বানানো হচ্ছে ধারালো কাঁচি।
একজন অভিজ্ঞ কামার দিনে গড়ে ৬০ থেকে ৮০টি কাঁচি তৈরি করতে পারেন। প্রতিটি কাঁচি তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৪০-৫০ টাকা, যা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। ফলে এই মৌসুমে কামারদের আয়ও বেড়েছে। কাঁচিগুলো সাধারণত লোহা ও স্টিলের সংমিশ্রণে তৈরি হওয়ায় সেগুলো টেকসই ও ধারালো হয়, ফলে কৃষকদের মাঝে এর চাহিদা ব্যাপক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোরোসহ বিভিন্ন জাতের ধান মিলিয়ে মোট ৭ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুর কাদের জানান, ভালোমানের দেশি কাঁচির চাহিদা এখন সবচেয়ে বেশি। দেশি কাঁচি টেকসই ও কার্যকর হওয়ায় তারা সরাসরি কামারদের কাছ থেকে কাঁচি সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয় কামার সুদেব চন্দ্র বসাদ বলেন, ধান কাটার মৌসুমে আমাদের সময় যেন উড়ে চলে যায়। দিনে গড়ে ৭০টি কাঁচি তৈরি করি, তবুও চাহিদা মেটাতে পারি না। আরেক কামার শ্রী মদন কর্মকার বলেন, অনেক সময় কাঁচি তৈরি করে রাখার আগেই বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি পুরোনো কাঁচিও অনেকে মেরামত করিয়ে নিচ্ছেন আমাদের কাছ থেকে। সহকারী কামার বরুণ কর্মকার বলেন, এই মৌসুমটাতে ভালোভাবে কাজ করতে পারলে দিনে গড়ে ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকা আয় করা যায়।