রাজশাহী
রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৫ ১৭:৪৫ পিএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৫ ১৭:৪৮ পিএম
রাজশাহী জেলায় প্রায় আড়াইশটি কমিউনিটি ক্লিনিকে তেমন ওষুধ সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে গ্রামের গরিব ও অতি সাধারণ মানুষদের। অনেকেই টাকার অভাবে ওষুধ কিনে খেতে পারছেন না। অন্যদিকে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধের জোগান না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষেরা।
এদিকে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে চাকরি করা অনেকের বেতন আটকে আছে ৮ থেকে ১০ মাস পর্যন্ত। এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণ কবে হবে তা জানা নেই কারও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের অতি দরিদ্র মানুষের ওষুধ চিকিৎসার একমাত্র ভরসা কমিউনিটি ক্লিনিক। কিন্তু এসব ক্লিনিকে গিয়ে ওষুধ না পেয়ে হতাশ ও মাঝেমধ্যে বাগ্বিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন অনেকে। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগেও পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির রয়েছে স্বল্পতা অন্যদিকে ফুরিয়ে গেছে ডিডিএস কিট ২৩ আইটেমটিও। সব মিলে গ্রামের অতি দরিদ্র মানুষের ভরসার স্থলে এসে আশাহত হয়ে ফিরতে হচ্ছে বাসায়।
ওষুধ নিতে আসা একাধিক রোগী সেলিনা বেগম নামের এক নারী বলেন, যেই ওষুধ নিতে এসেছিলাম সেই ওষুধ এখানে নেই। অথচ আগে পাওয়া যেত। কবে পাব তার ঠিক নেই। কেনার মতো সামর্থ্য নেই। পুঠিয়া এলাকার পায়রা বেগম বলেন, ওষুধ নিতে এসে ঘুরে যাচ্ছি। আগে দিচ্ছিল এখন নাই বলে তাড়িয়ে দিচ্ছে। সেন্টু হোসেন নামের এক রোগী বলেন, আমাশয় ও ঠান্ডার ওষুধ নিতে এসেছিলাম এখানে না থাকায় তা পেলাম না। যেসব ওষুধ নিতে এসেছি সেসব পেলাম না অন্য ওষুধ নিয়ে গেলাম।
পুঠিয়া উপজেলার মাঠ পর্যায়ের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা বিপাশা খাতুন বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ডিডিএস কিট শেষ হয়ে গেছে। এ ছাড়াও ওষুধের পুরোপুরি জোগান না থাকায় আমরা কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছি। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমাদেরকে জানানো হচ্ছে খুব দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
পুঠিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছা. দিলারা খাতুন বলেন, আমাদের ওষুধের ঘাটতি রয়েছে সত্য কথা। তবে ডিডিএস কিট ২৩ আইটেম পুরোপুরি শেষ। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধানের।
উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হাসান শাওন জানান, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিছুটা ওষুধ পাওয়া গেলেও ওষুধের জোগান না থাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নানা কারণে ওষুধের জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
রাজশাহী জেলার সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম জানান, বর্তমানে ওষুধের জোগান একটু কম। কবে নাগাদ এই ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা আমার জানা নেই। তবে চেষ্টায় আছি যত দ্রুত বিষয়টি স্বাভাবিক করা যায়। এরই মধ্যে কিছু ওষুধ এসেছে স্যাম্পল হিসেবে। আশা করছি খুব দ্রুত বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।