× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চুয়াডাঙ্গা হানাদারমুক্ত হয়েছিল যেভাবে

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ০৯:৫৬ এএম

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৩:০৮ পিএম

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের মাধবখালী সীমান্তে শহীদ ছয় মুক্তিযোদ্ধার কবর। ছবি : প্রবা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের মাধবখালী সীমান্তে শহীদ ছয় মুক্তিযোদ্ধার কবর। ছবি : প্রবা

আজ ৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত সীমান্তঘেঁষা চুয়াডাঙ্গা জেলা হানাদারমুক্ত হয়। এদিন মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর তুমুল প্রতিরোধের মুখে পাক হানাদার বাহিনী এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে পাশের কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলা অভিমুখে পালিয়ে যায়। হানাদারমুক্ত হয় চুয়াডাঙ্গা।

মহান মুক্তিযুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার অবদান অবিস্মরণীয়। প্রথম রাজধানী হিসেবে নির্ধারিত হয় চুয়াডাঙ্গা। তারিখও নির্ধারিত হয় এপ্রিলের ১০। খবরটি আগেভাগেই জানাজানি হয়ে যাওয়ার ফলে কৌশলগত কারণে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় প্রথম রাজধানী করা হয় এবং প্রবাসী সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর জেলার জীবননগর শহরে পাক হানাদার বাহিনীর পতন ঘটলেও চূড়ান্ত বিজয় আসে ৪ ডিসেম্বর। এদিন প্রত্যুষে মিত্রবাহিনীর কমান্ডার মেজর দত্ত ও বর্ম্মা এবং ৮ নম্বর সেক্টরের বানপুর সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী যৌথভাবে জীবননগরের ধোপাখালী সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে প্রবেশ করে জীবননগর, দত্তনগর, হাসাদহ সন্তোষপুর, রাজাপুর, ধোপাখালী ও মাধবখালীতে অবস্থানরত পাকবাহিনীর ওপর অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী প্রচণ্ড যুদ্ধ। এ সময় রাজাপুর ও মাধবখালী সীমান্তে সম্মুখসমরে শাহাদাতবরণ করেন হাবিলদার আবদুল গফুর, নায়েক আবদুল মালেক, আবদুর রশিদ, সিপাহি সিদ্দিক আলী, আবদুল আজিজ ও আবু বকর।

যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর ২৯ বেলুচ রেজিমেন্টের সেনারা যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়ে পাশের ঝিনাইদহের দিকে পালিয়ে যায়। এ সময় জীবননগর থানায় ফেলে যাওয়া পাকবাহিনীর ক্যাপ্টেন নারীধর্ষক ও অমানুষিক নির্যাতনকারী হিসেবে চিহ্নিত মুনছুর আলীর ব্যবহৃত জিপ গাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা আগুন ধরিয়ে দেন এবং থানার মালখানা থেকে উদ্ধার করেন পাশবিক নির্যাতনের পর সদ্য হত্যা করা সাত-আট জন অজ্ঞাতপরিচয় যুবতীর লাশ।

অন্যদিকে জেলার দর্শনা ও দামুড়হুদা অঞ্চল দিয়ে পাকবাহিনীর ওপর গেরিলা আক্রমণ শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী। এর ফলে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হওয়ার পথ সুগম হয়।

এর আগে ৫ আগস্ট সম্মুখসমরে দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহে শাহাদাতবরণ করেন মুক্তিপাগল আট তরুণতারেক, হাসান, আফাজ উদ্দীন, খোকন, আবুল কাশেম, রবিউল, রওশান ও কিয়ামুদ্দিন।

এরপর ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পাকবাহিনী চুয়াডাঙ্গা শহরমুখী মাথাভাঙ্গা নদীর ব্রিজের একাংশ শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দেয়; যাতে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অনুসরণ করতে না পারে। ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পাকবাহিনী চুয়াডাঙ্গা শহর ও আলমডাঙ্গা অতিক্রম করে কুষ্টিয়ার দিকে চলে যায়। এরপর ১৯৭১ সালের আজকের দিনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয়। এদিন স্বতঃস্ফূর্ত মুক্তিপাগল মুক্তিযোদ্ধারা চুয়াডাঙ্গার মাটিতে প্রথম উত্তোলন করেন লাল-সবুজ খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। শুরু হয় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড। মোস্তফা আনোয়ারকে মহকুমা প্রশাসক করে এখানে বেসামরিক প্রশাসন চালু করা হয়।

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গাকে মুক্ত করেন এ জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

চুয়াডাঙ্গায় মোট মুক্তিযোদ্ধা ১ হাজার ৬৩১ জন। এর মধ্যে যুদ্ধাহত ১৫৬ জন। এ রণাঙ্গনে শহীদ হয়েছেন ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। এ জেলায় দুজন বীরপ্রতীকও রয়েছেন। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে এসব সূর্যসন্তানের সাহসী মোকাবিলা চুয়াডাঙ্গাকে করেছে মহিমান্বিত। এ কারণে জাতীয় গৌরবের প্রেক্ষাপটে চুয়াডাঙ্গার নন্দিত অবস্থান ইতিহাসে স্বীকৃত।

দিনটি উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা