চাঁদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:২০ পিএম
আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৫ ১৬:৫৬ পিএম
চাঁদপুরে ধনাগোদা নদীর উপরে দাঁড়িয়ে আছে বেইলি ব্রীজ, নেই কোন সংযােগ সড়ক
চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে ধনাগোদা নদীর উপরে দাঁড়িয়ে আছে একটি বেইলি ব্রীজ। ব্রীজটি দেখলে বুঝার উপায় নেই এর উপর দিয়ে কখনো যানবাহন ও গ্রামবাসীর চলাচল ছিল। মূলত নদীর জলে ভেসে গেছে দু’পাশের দুই কিলোমিটার রাস্তা। এতে আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের পাঁচ গ্রামের শত শত পরিবার।এরইমধ্যে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষায় একটি স্থায়ী প্রকল্পের জন্য কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানায় জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জানা গেছে, চাঁদপুর সদরের বিষ্ণুপুর নতুন বাজার থেকে মতলব দক্ষিণের বরদিয়া আড়ংবাজারের কানুদি- বরদিয়া সড়ক ছিল এটি। রাস্তা বিলীন হওয়ার পর এখন ভাঙ্গছে নদীপাড়ের পাঁচ গ্রামের মানুষের বসতভিটা ও ফসলি জমি। বসতভিটার ভাঙ্গন আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষের কাটছে নির্ঘুম রাত। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের প্রধান সড়ক ছিল এটি। এখন নৌকা আর দূরের পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হলে রাস্তাটি পুনরায় সচল করার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা।
ডবষ্ণপুর গাজী বাড়ীর বাসিন্দা নাজমা বেগম বলেন, ‘ব্রীজ আছে, রাস্তা চলে গেছে। আমরা ছয়জনের পরিবার, একটা প্রতিবন্ধী মেয়ে আছে। তাদের সকলকে নিয়ে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। রাতে কখন ভেঙে পড়ে যায়, তাই সজাগ থাকা লাগে। দিনের মাঝে ঘুমাই।’ নাজমা বেগমের স্বামী আবুল বাসার বলেন, ‘আমরা ৫০ বছর ধরে এখানে বসবাস করতেছি। এই পর্যন্ত আমাদের অনেক কষ্টে দিন গেছে। আমাদের এক বাড়ি ভেঙে নিয়ে গেছে আরেক বাড়ি ভাঙতেছে। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। ’
বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘পুরোনো কবরস্থান ভেঙে গেছে। এখনো আমাদের বাড়িঘর সব ভেঙে নিয়ে যাইতেছে। এর মধ্যে চারটা মসজিদ, তিনটা স্কুল রয়েছে। কানুদি-বহরদিয়া রোড ভেঙে যাচ্ছে। তাই সরকারের কাছে স্থায়ী বাঁধ চাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমাদের এখানে রাস্তা ছিল। রাস্তাঘাট সব ভেঙে নিয়ে গেছে নদীতে। এখন নদীতে রাস্তা ভেঙে নিয়ে গেছে। ব্রীজটা নদীর উপরে আছে।ব্রীজটা এখন নদীর মাঝে ভাসতেছে। এখন আমরা পরিবার নিয়ে অনেক আতঙ্কে আছি। এখন সরকারের কাছে দাবি স্থায়ী বাঁধ দিয়ে যেন আমাদের বাড়িঘর আটকানো হয় ‘
পথচারী গৃহবধূ জান্নাতুল নাঈম বলেন, ‘আগে রাস্তা ছিল, এখন রাস্তা নাই। এই কারণে আমরা অর্ধেক পথ রাস্তা দিয়ে আসছি আর অর্ধেক পথ মানুষের বাড়ির ভেতর দিয়ে হেঁটে হেঁটে আসছি।’ গৃহবধূর শাশুড়ী ফিরোজা বেগম বলেন, ‘এখানে রাস্তা নাই। রাস্তা না থাকার কারণে আমরা বাচ্চা নিয়া হেঁটে আসছি। গাড়িও চলে না।’
সোহেল প্রধানীয়া বলেন, ‘ওইখান থেকে এইটুক পর্যন্ত ভেঙে নিছে। এখন আমরা সরকারের কাছে বাঁধ চাই। রাস্তা যতটুকু হইছিল তাতে অনেক খুশি হইছিলাম। বেড়িবাঁধ হবে আমাদের বলছে কিন্তু এখনো হয় নাই। সরকারের কাছে আমাদের গ্রামবাসীর আবেদন দ্রুত আমাদের এই ভাঙন রক্ষা করার জন্য স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে দেন এটা আমাদের আকুল দাবি।’
অপরদিকে, তৎকালীন সময়ে পরিকল্পিতভাবে রাস্তা ও ব্রীজটি নির্মিত হয়নি দাবি করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, এখানে ২.১ কিলোমিটার একটি স্থায়ী প্রকল্পের জন্য এরইমধ্যে কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নকশা প্রণয়নের নিমিত্তে ডিজাইন দপ্তরে পাঠানো হয়। নকশা পাওয়া গেলে দ্রুতই কারিগরি কমিটি প্রতিবেদন এবং ডিপিপি দাখিল করা হবে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষ্ণপুর এলাকায় আমরা গত বর্ষায় আমরা যে সমস্ত এলাকায় নদী ভাঙ্গনের প্রবণতা ছিল। বিশেষ করে যেখানে কিছু স্থাপনা স্কুল, বাজার, মসজিদ এবং মন্দির সংলগ্ন যেই জায়গা আছে সেখানে আমরা অস্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ করে নদী ভাঙ্গনের প্রবণতা অনেকটাই রোধ করেছি। এরইমধ্যে এখানে একটি স্থায়ী ২.১ কিলোমিটার প্রকল্পের জন্য আমরা কারিগরি কমিটি গঠন হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নকশা প্রণয়নের নিমিত্তে ডিজাইন দপ্তরে লিখেছি। নকশা পাওয়া গেলে আমরা দ্রুতই এলাকায় কারিগরি কমিটি প্রতিবেদন এবং ডিপিপি দাখিল করবো।’
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে রাস্তা ও চারটি ব্রীজ নির্মিত করা হয়। তবে, গত তিন-চার বছর ধরে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে রাস্তাটি। এরই মধ্যে গোদা নদীর ভাঙ্গনের কবলে দুই উপজেলার কানুদি, মনোয়ারখাদী, বিষ্ণপুর, লালপুর ও বরদিয়া গ্রাম।