মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৫ ০৯:৩৭ এএম
আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৫ ১০:৫০ এএম
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনোয়ার হোসেন
কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা টেন্ডার পাওয়া কাজের টাকায় ঠিকাদারের কাছে জিলাপি খাওয়ার আবদার জানিয়েছেন। এ ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়।
অডিও রেকর্ডটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা পর্যায়ের সংগঠক ঠিকাদার আফজাল হুসাইন শান্ত ও ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনোয়ার হোসেনের মধ্যকার।
সেখানে ওসিকে বলতে শোনা যায়, ‘সেফটি সিকিউরিটি দিলাম তো সারা জীবন। তোমরা যে ১৮ লাখ টাকার কাজ করে ১০ লাখ টাকা লাভ করলা, ১০ টাকার জিলাপি কিনে তো পাবলিকেরে খাওয়ালে না। খাইয়া একটু দোয়া কইরা দেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের। তোমার জায়গায় আমি হইলে সুদের উপরে টাকা আইনা আগে জিলাপি খাওয়াইতাম। দোয়াডা হইল সবার আগে। পরে তো বিল পামু, তাই না?’
একপর্যায়ে ওসি বলেন, ‘ঠিক আছে তাহলে, জিলাপির অপেক্ষায় রইলাম না কি? না না, জিলাপি হইলেই হইব। এক প্যাঁচ, আধা প্যাঁচ জিলাপি দিলে হইব। বিভিন্ন পারপাসে হইলে পাবলিক খাইল আর কী, বোঝ না?’
এ সময় আফজাল হুসাইন শান্ত বলেন, ‘বিল-টিল পাই, একটা অ্যামাউন্ট দেখবনে।’ জবাবে ওসি বলেন, ‘ঠিক আছে।’
এ বিষয়ে ঠিকাদার শান্ত বলেন, ‘আমি ইটনা উপজেলার বলদা হাওরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৪৮০ মিটার ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ পাই। কাজ শেষ হওয়ার পরে থানায় গেলে তিনি (ওসি) জিলাপি খেতে টাকা চাইতেন। তখন রেকর্ড করে রাখতে পারিনি। পরে ওসির সঙ্গে ফোনে আমার কথা হলে আমার কাছে ফসলরক্ষা বাঁধ করে যে লাভ হয়েছে, সেখান থেকে জিলাপি খেতে চান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সরকারি কাজ পেয়েছি টেন্ডারের মাধ্যমে। এখানে ওসি কি জিলাপি খেতে চাইতে পারেন? আমার কাছে যদি জিলাপি খাইতে চাইতে পারেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কতটা শান্তিতে আছে বুঝতে পারছেন?’
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে ওসি মনোয়ার হোসেন বলেন, মজার ছলে জিলাপি খেতে চেয়েছিলেন তিনি। অডিও রেকর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এটি এডিট করা হতে পারে।
এদিকে বিষয়টি তদন্ত করা হবে জানিয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী বলেন, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।