পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৫ ১১:২৬ এএম
আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৫ ১১:৪৪ এএম
চৈত্রের মাঝামাঝি হঠাৎ ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। প্রবা ফটো
চৈত্রের মাঝামাঝি হঠাৎ ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলার সর্বত্র কুয়াশার ঘন আস্তরণ ছড়িয়ে পড়ে।
ভোর থেকে শীতল বাতাস বইতে থাকায় শীতের অনুভূতি দেখা দেয়। বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরতে থাকায় চলাচলে দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হয়েছে, আর সড়ক-মহাসড়কে মানুষের উপস্থিতি ছিল কম। বাইরে বের হওয়া মানুষজনকে হালকা শীতের পোশাক পরতে দেখা গেছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো উঁকি দিলে তাপমাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
বুধবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সকাল ৬টায় ছিল ১৬.৮ ডিগ্রি। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এমন অস্বাভাবিক কুয়াশা ও আবহাওয়া তারা দেখেননি।
বোদা উপজেলার কৃষক ধনেশ চন্দ্র রায় (৬০) বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে এমন আবহাওয়া দেখিনি। গ্রামে একটা কথা আছে, চৈত্র মাসে মহিষের ঠান্ডা। এবার সেটাই যেন সত্যি হলো।’
উপজেলার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনিমেষ রায় বলে, ‘সকালবেলা পড়তে বেরিয়েছিলাম, কিন্তু এত শীত হবে ভাবিনি। শীতের কাপড় ছাড়া বের হয়ে বেশ কষ্ট পেয়েছি।’
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০-৩৫ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে, আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬-১৮ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে আসছে। আকাশে মেঘের উপস্থিতি ও বাতাসে ধূলিকণার আধিক্যের কারণে কুয়াশা বেড়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আকাশে মেঘ থাকায় কুয়াশা ঝরছে। বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় ও ধূলিকণার পরিমাণ বাড়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন আবহাওয়া আরও কয়েক দিন থাকতে পারে।
বিরল এ আবহাওয়ার কারণে সর্দি-জ্বরসহ নানা রোগের প্রকোপও বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।