নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৫ ১৪:৪১ পিএম
আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৫ ১৪:৪২ পিএম
সেহরিতে ভাসমানদের জন্য চট্রগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন। প্রবা ফটো
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী রেলস্টেশনে থাকা ৩৫০ ছিন্নমূল ভাসমান মানুষের সঙ্গে সেহরি খেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে এ সেহরির ব্যবস্থা করছে বেগমগঞ্জ মানব কল্যাণ সংগঠন।
এ ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ভোরে ভাসমানদের জন্য চট্রগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন করা হয়। সেহরিতে ইউএনও তাদের প্লেটে খাবার তুলে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৬ বছর ধরে রেলস্টেশনের ভাসমান মানুষদের সেহরির ব্যবস্থা করছে বেগমগঞ্জ মানব কল্যাণ সংগঠন। ঠিক সেহরির সময় হলে ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষেরা এখানে খাবার খেতে আসেন। ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এ উদ্যোগটি এলাকায় দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিনামূল্যে সেহরি পেয়ে বেশ খুশি রোজাদাররা।
সেহরি খেতে আসা মো. রেদোয়ান আলী বলেন, রেলস্টেশনে অনেক মানুষ থাকে। আমি প্রায় এখানে এসে সেহরি করি। পাশাপাশি সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে এসে বিনামূল্যে সেহরি করেন। এমন আয়োজন দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলছে। আমরা আয়োজকদের সাধুবাদ জানাই।
আবুল কালাম নামে আরেকজন বলেন, আমাদের বাড়িঘর নাই। এখানে দিনের বেলায় কাজ করি, রাত হলে স্টেশনে থাকি। যখন কাজ থাকে না, তখন খাবার জুটে না। রমজান মাস এলে এখানে বিনামূল্যে সেহরি পাই। এটা আমাদের জন্য অনেক উপকার হয়। আজকে মেজবানি খেলাম। খুব ভাল লাগছে।
বেগমগঞ্জ মানব কল্যাণ সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক টিপু সুলতান বলেন, সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় আমরা প্রতিদিন বাজার করে খাবার পরিবেশন করে থাকি। আজ সেহরিতে ৩৫০ জন মানুষের জন্য ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের ইউএনও স্যার নিজে এসে সবার সঙ্গে খেয়েছেন। আমরা এভাবে উৎসাহ পেলে এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখব, ইনশাআল্লাহ।
চৌমুহনী ব্যবসায়ী মোরশেদুল আমিন ফয়সল বলেন, চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ীরা সারা বছরের আয় থেকে এখানে রমজানের খাবারের জন্য টাকা দেন। অনেকে চাল, ডাল ইত্যাদি কিনে দেন। যারা ছিন্নমূল আর ভাসমান আমরা কেবল তাদেরই খাবার খাইয়ে থাকি। আমি সব সময় এখানে সহযোগিতা করে যাব।
নোয়াখালী যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন বলেন, আজকে আমি নিজেও এ ভাসমান মানুষদের সঙ্গে সেহরি খেয়েছি। সমাজে এমন সুন্দর সম্প্রীতি থাকলে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ হবে। যারা এ উদ্যোগে অর্থ দিচ্ছেন, যারা শ্রম দিচ্ছেন- সবাইকে স্যালুট জানাই। আমি চাই এ কার্যক্রম শত বছর পর্যন্ত চলুক।
বেগমগঞ্জ ইউএনও মো. আরিফুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে স্বেচ্ছাসেবকদের চালিয়ে যাওয়া এ কার্যক্রম প্রশংসনীয়। এটি একটি মহৎ কাজ। অনেকের অঢেল সম্পদ থাকলেও মন থাকে না। যাদের মন থাকে, তাদের আবার সম্পদ থাকে না। মানবিক কাজে ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করছেন জেনে আমি খুশি হয়েছি এবং নিজেই রেললাইনে সেহরি খেয়েছি। স্বেচ্ছাসেবকদের দেখে অন্যদের এমন মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।