হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৫ ১১:৪৪ এএম
আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৫ ১১:৪৮ এএম
রোজায় অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকার একটি মুদি দোকানে অভিযান পরিচালনা করছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
রোজায় কমেনি অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। দেশি তৈরি পোশাক বিদেশি বলে চালিয়ে দিচ্ছেন অনেক ব্যবসায়ী। রোজার ১৫ দিনে নগরীর বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালানোর ফলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত কোথাও অভিযান চালিয়ে খাদ্যে ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানোর প্রমাণ পেয়েছেন। আবার কোথাও অভিযান চালিয়ে দেশি তৈরি পোশাক বিদেশি বলে গলাকাটা দাম আদায় করারও প্রমাণ পেয়েছেন।
এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের একটাই টার্গেট যেকোনো মূল্যে লাভ করতে হবে। তাদের এই মানসিকতায় ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। খাদ্যে ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো হচ্ছে। ওজনে কম দিচ্ছেন, কম দামের পণ্য বেশি দামে বিক্রি করছেন।’
রোজায় প্রায় প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই সময়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নগরীর বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে ব্যবসায়ীদের কারসাজির উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরীর চাক্তাই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার। অভিযানে চারটি সেমাই তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে নোংরা পরিবেশে সেমাই তৈরির প্রমাণ পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় ওই চারটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এর আগে গত শনিবার নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারের সেলিম পাঞ্জাবি মিউজিয়ামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে দেশে তৈরি পাঞ্জাবিতে ইন্ডিয়ান পাঞ্জাবির ট্যাগ লাগিয়ে বেশি দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযানে ওই বাজারে অবস্থিত পরিস্থান নামের পোশাকের দোকানে অভিযান চালিয়ে দেশের তৈরি বিভিন্ন পাঞ্জাবি ইন্ডিয়ান পাঞ্জাবির ট্যাগ লাগিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে।
নগরের কালুরঘাট এলাকার সাকসেস অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় সম্প্রতি ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি সিলগালা করে দেওয়া হয় কারখানা। ক্রেতার কাছে তেল বিক্রি না করে ভোজ্য তেলের সংকট দেখিয়ে গুদামে তেল মজুদ করার অভিযোগে গত ২ মার্চ পাহাড়তলী বাজারের ইকরাই স্টোর নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের অভিযানে উঠে আসে নিয়মের তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রামের দেওদীঘি বাজারের পূর্বপাশে একটি বাসায় তেল নকলের কারখানা গড়েছেন ইউনুস। নকল সয়াবিন তেল এনে তা কারখানায় প্যাকেজিং করেন তিনি। খোলাবাজার থেকে বোতল কিনে তাতে মোড়ক লাগানো হচ্ছে আসল রূপচাঁদা ও পুষ্টি ব্র্যান্ডের। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাসাটিতে অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় ৩ হাজার ৫০০ লিটার খোলা ও বোতলজাত তেল, ৬ হাজার ৮০০ পিস এক এবং দুই লিটার পরিমাপের খালি বোতল, নোংরা তেলের ড্রাম ও মোটর জব্দ করা হয়। পরে কারখানা সিলগালা ও মালিক ইউনুসকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, রোজায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কেবল বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নিতেই নামকরা ও বিশ্বস্ত কিছু প্রতিষ্ঠানও অনিয়মে জড়িত হচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগের। অভিযানে গিয়ে আমরা ভেজাল উপাদান দিয়ে খাদ্য তৈরি, ক্ষতিকারক রঙ, কেমিক্যাল ব্যবহারের প্রমাণ পাচ্ছি। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি করতে পিছপা হচ্ছে না তারা।