কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৫ ১৬:০৯ পিএম
আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৫ ১৬:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লার ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসকের ভুলে ইমরান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
রবিবার (১৬ মার্চ) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
ইমরান হোসেন কাতার প্রবাসী হুমায়ুনের ছেলে। তিনি কুমিল্লার দ্বিতীয় মুরাদপুর দক্ষিণ পাড়া সর্দার বাড়ির বাসিন্দা।
অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম আতাউর রহমান। এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চিকিৎসক আতাউর রহমানের মুঠোফোনে কল করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরিবারের দাবি, ইমরান মারা গেলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাইফ সাপোর্টে রেখে চিকিৎসার নামে প্রায় দুই লাখ টাকার ওষুধ কিনিয়ে নেয়।
এদিকে ইমরানের মৃত্যুর খবর শুনে স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইমরানের স্বজনরা জানান, ঢাকার একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে অপারেশন করানোর কথা থাকলেও তিনি না আসায় স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে অপারেশন করানো হয়।
এ ঘটনার পর সংক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। এর আগেও এই হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইমরান ছিলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে বড়। তার এক ছোট ভাই প্রতিবন্ধী এবং অন্যজন বয়সে ছোট। ইমরানের অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ইমরানের চাচা জাকির হোসেন জানান, আমার ভাতিজাকে তারা সামান্য অপারেশনের কথা বলেছিল। কিন্তু, তারা সাত ঘণ্টা অপারেশন থিয়েটারে রেখেছিল। পরে রোগীর সমস্যা হয়েছে এ কথা বলে লাইফ সাপোর্টে নেয়। আমরা রাজি হই। কিন্তু লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার পর প্রায় তিনদিন হয়ে গেলেও তারা আমাদের রোগীকে দেখতে দেয়নি। রবিবার রাতে আইসিউতে ঢুকে দেখি যে আমাদের রোগী মৃত। কিন্তু তারপরেও তারা আমাদের কাছ থেকে মৃত রোগীর চিকিৎসা করানোর জন্য পরীক্ষা ফি ও ওষুধ কিনিয়েছে। আমাদেরকে ২৫ হাজার টাকার অপারেশনের কথা বলে ধাপে ধাপে তারা আমাদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেয়। তাদের গাফিলতির কারণে আমাদের রোগী মারা গেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।
এদিকে রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ডাক্তার আবদুল হক বলেন, চিকিৎসক আতাউর রহমান অপারেশন করেছেন। রোগীর মৃত্যুর বিষয়টিতে চিকিৎসকের অবহেলা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, রাতে ঘটনা শুনে পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে যায়। সেখানে তারা উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে বাড়ি চলে যায়। এ ঘটনায় এখনও কোনো অভিযোগ দেয়নি কেউ। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।