রাজশাহী সিটি
রাজু আহমেদ, রাজশাহী
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৫ ১৩:৩২ পিএম
রাজশাহী নিউমার্কেট। ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহী নিউমার্কেটটি অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে বলে একাধিকবার সতর্কতা জারি করেছে দমকল বাহিনী। তার পরেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি মার্কেটটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) ও ব্যবসায়ীরা। ফলে গত শনিবার রাতে মার্কেট সংলগ্ন পশ্চিমে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা কাঁচাবাজারে আগুন লাগে। আগুনে ১২টি দোকান পুড়ে ছাই হয়। দমকল বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে এতে ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ৩০ লাখ টাকা। তবে রাতে মার্কেট বন্ধ থাকায় কোনো হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডসহ ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়েই চলছে রাজশাহী নিউমার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ মোট ৫টি মার্কেট। দমকল বাহিনী বারংবার সতর্ক করে ব্যানার টাঙিয়ে দিলেও রাতারাতি তা খুলে ফেলা হয়েছে। এসব মার্কেটের নেই নিজস্ব পানি সংরক্ষণাগার। এমনকি মার্কেটগুলোর ভবন পুরোনো হওয়ায় তা ভেঙে নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। মার্কেট পাঁচটি হলো, নগরীর সাহেববাজারের আরডিএ মার্কেট, রাজশাহী নিউমার্কেট, হড়গ্রাম নিউমার্কেট, সোনাদীঘি এলাকার সমবায় মার্কেট এবং নগরীর সাহেববাজার কাপড়পট্টি। এর মধ্যে আরডিএ মার্কেটি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) মালিকানাধীন, সমবায় মার্কেটটি সমবায় বিভাগের, রাজশাহী নিউমার্কেট ও হড়গ্রাম নিউমার্কেট রাজশাহী সিটি করপোরেশনের এবং কাপড়পট্টি মার্কেটটি একাধিক ব্যক্তিমালিকানায় গড়ে উঠেছে।
আরডিএ মার্কেটের নির্ধারিত দোকানের চেয়ে বেশি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। অনুমোদনের বাইরে বহুতল করা হয়েছে মার্কেটটি। এমন অবস্থায় মার্কেট ভেঙে নতুন করে ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তবে ব্যবসায়ী নেতাদের বাধার মুখে তা সম্ভব হচ্ছে না। বাকি মার্কেটগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র। এ ছাড়া সমবায় মার্কেটের কলামে ফাটল দেখা দিয়েছে। হরগ্রাম নিউমার্কেটটি অপরিকল্পিতাভাবে নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম বলেন, দমকল বাহিনীর চেষ্টায় নিউমার্কেট কাঁচাবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে ১২টি দোকান পুড়ে গেছে। নগরীতে এমন ৫টি মার্কেট আছে, যা অগ্নিঝুঁকির পাশাপাশি ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে।
নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে ওইসব মার্কেটের প্রধান ফটকে সতর্কতামূলক ব্যানার টাঙিয়ে দিয়েছিলাম। তবে কে বা কারা ব্যানার তুলে ফেলেছে। মার্কেটগুলো ঝুঁকির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মালিক পক্ষকেও অবগত করেছি। তবে এখন পর্যন্ত তারা দৃষ্টান্তমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। গত ৩ থেকে ৪ বছর ধরে তাদেরকে ঝুঁকির বিষয়গুলো জানিয়ে আসছি।
রাসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন বলেন, যে ৫টি মার্কেটের কথা বলা হচ্ছে তার মধ্যে দুটি মার্কেট রাসিকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ওইসব মার্কেটের ঝুঁকি নিরসনে কাজ করছি। বাকি মার্কেটগুলোর বিষয়ে কথা বলতে সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বিত সভায় আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরডিএ’র চেয়ারম্যান এসএম তুহিনুর আলম (যুগ্ম সচিব) বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আরডিএ মার্কেটের ঝুঁকির বিষয়ে জানতে পেরেছি। এরপর নেসকো ও মার্কেট মালিক পক্ষের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ডেকে কথা বলেছি। এ বিষয়ে কার্যকর সমাধানে আন্তরিক।