ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ০৮:৪৫ এএম
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:১৯ পিএম
ফাইল ফটো
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসকের অবহেলায় গর্ভের সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
শহরের গ্রিনভিউ হাসপাতালে রবিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত খাদিজা বেগম সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের খেয়াই গ্রামের প্রবাসফেরত নয়ন মিয়ার স্ত্রী। তার চার ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
প্রসূতির মৃত্যুর পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে হাসপাতালের চিকিৎসক ও মালিকপক্ষের একটি সিন্ডিকেট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রসূতির স্বজনরা হাসপাতালের সামনে দোষীদের বিচার দাবিতে অবস্থান নেন।
মৃতের স্বামী নয়ন মিয়ার অভিযোগ, শনিবার রাতে খাদিজার বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে ওই হাসপাতলে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. জিনিয়া খানের তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয়। এ সময় তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অক্সিজেন লাগানোর পর জানানো হয়, গর্ভের সন্তান নড়াচড়া করবে। কিন্তু পুরো রাতেও সন্তান নড়াচাড়া করেনি। এমনকি রবিবার বেলা ১১টায়ও চিকিৎসক এসে খাদিজাকে দেখেননি। পরে পরিবারের লোকজন চাপ দিলে চিকিৎসক এসে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে খাদিজার গর্ভের সন্তানটি মারা গেছে বলে জানান।
পরে চিকিৎসকরা মৃত সন্তানটিকে স্বাভাবিক প্রসব করানোর কথা জানান। এ সময় পরিবারের সদস্যরা মৃত সন্তান স্বাভাবিক প্রসব করালে কোনো সমস্যা রয়েছে কি না জানতে চাইলে চিকিৎসক বলেন, কোনো সমস্যা হবে না।
মৃতের স্বামী আরও অভিযোগ করেন, পরে ডা. জিনিয়া খান ও ডা. আবু হামেদ বাবু খাদিজার মৃত সন্তানটি স্বাভাবিক প্রসব করানোর জন্য চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে খাদিজার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকলে চিকিৎসককে বারবার সিজার করানোর কথা বলা হলেও তারা তা শোনেননি। এর পরই খাদিজার শরীরে খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. একরাম উল্লাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে পাঠানো হবে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমরানুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. আবু হামেদ বাবু বলেন, ‘রোগীর বয়স বেশি ছিল। সন্ধ্যার পর তার খিঁচুনি ও রক্তচাপ বেড়ে যায়। আমরা রোগীটিকে বাঁচানোর জন্য সবধরনের চেষ্টাই করেছি।’
জানা গেছে, এক বছর আগেও গ্রিনভিউ হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় এক নবজাতকের হাত ভেঙেছিল। অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি করা হলেও সেই রিপোর্ট এখনও প্রকাশ করেনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন। তবে ওই রিপোর্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন সিভিল সার্জন।