আবু সাঈদ, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৫ ১৪:৫৪ পিএম
কালিয়াকৈর উপজেলার সাটুরিয়া শোলহাটি এলাকায় চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি করেন তিন গম্বুজের ছোট্ট একটি মসজিদ।
মির্জা হাজি এলেম উদ্দিন মুন্সি তার জীবদ্দশায় বেশ কয়েকবার হজ করার পরও গ্রামবাসীকে নিয়ে একত্রে নামাজ আদায় করতে না পরার আক্ষেপে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে দক্ষ কারিগর দ্বারা ১৮৯০ সালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সাটুরিয়া শোলহাটি এলাকায় চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি করেন তিন গম্বুজের ছোট্ট একটি মসজিদ। মসজিদের নামকরণ হয় ‘হাটুরিয়া চালা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’। ১৩৫ বছর আগে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি আজও ইসলামের অনন্য নিদর্শন হিসেবে টিকে আছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মিশে আছে স্থাপত্যশৈলীর অতুলনীয় সৌন্দর্য।
মসজিদ নির্মাণের সময় ইট-সিমেন্টের তেমন প্রচলন না থাকায় প্রাচীন পদ্ধতিতে চুন-সুরকি ও কলকাতা থেকে আনা সিরামিক প্লেট দিয়ে তৈরি করা হয় মসজিদটি। পুরো মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে ১০টি পিলারের ওপর ভর করে। ছাদে তিনটি গুম্বুজ রয়েছে। প্রতিটি গুম্বুজ কলকাতা থেকে আনা সিরামিক প্লেট দিয়ে কারুকাজ করা। পুরো মসজিদে একসঙ্গে ১৩০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।
মসজিদটির সভাপতি মো. সফিকুল আলম জানান, ‘বংশপরম্পরায় আমরা মসজিদটি দেখাশোনা করছি।’ মসজিদের কোষাধ্যক্ষ মোতাওয়াল্লি ইয়াকুব আলী মেম্বার বলেন, ‘একসময় দূরদূরান্ত থেকে মানুষ মসজিদটি দেখতে ও নামাজ আদায় করতে আসতেন। বর্তমানে মসজিদটির পুবপাশে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।’ মসজদটির ইমাম মুফতি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদের মুসল্লিদের ইমামতি করতে পেরে আমি সম্মানিত। সরকারিভাবে মসজিদটি সংস্কার ও সংরক্ষণ করা গেলে ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষা হবে।’ কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার আহম্মেদ বলেন, ‘মসজিদ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মসজিদটি সংরক্ষণ ও সংস্কারে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।’