বাউফল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৫ ১৫:৪৬ পিএম
আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৫ ১৫:৪৬ পিএম
শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে হাফেজ জোবায়ের হোসেনের মাদ্রাসা। প্রবা ফটো
নিজে পড়াশুনা করেছেন সাধারণ শিক্ষায়। তবে পবিত্র কোরআন শরীফের প্রতি ছিল সীমাহীন ভালাবাসা। সেই ভালবাসার টান থেকে ৬ ছেলে ও ৪ মেয়েকে বানিয়েছেন কোরআনে হাফেজ। তাদের বিয়েও দিয়েছেন হাফেজ-হাফেজাদের সঙ্গে।
এমনকি নাতি-নাতনিরা ও নাতজামাইরাও হয়েছেন কোরআনে হাফেজ। তার পরিবারে এখন ৭৯জন কোরআনে হাফেজ রয়েছেন। এলাকায় তারা ‘হাফেজ পরিবার’ হিসেবে পরিচিত।
এমন বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পটুয়াখালীর বাউফল সদর ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মো. শাহজাহান হাওলাদার (৯৫)।
স্থানীয়রা জানান, বাঁশবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা নুর মোহাম্মাদ হাওলাদারের দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে শাহজাহান হাওলাদার। মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে হারান শাহাজাহান। কয়েক মাস পরে তার মা আমেন খাতুনও মারা যান। একমাত্র বড় ভাই মনির হাওলাদার তাকে লালন পালন করেন। বাউফল সরকারি কলেজ থেকে ১৯৭১ সালে এইচএসসি পাশ করেন শাহজাহান। ছোট বেলা থেকেই ধার্মিক ছিলেন তিনি। সারাজীবন তাবলিগ জামাত করেছেন। কোরআন শরীফ ও হাফেজদের অনেক ভালবাসতেন তিনি। সেই ভালবাসা থেকে লক্ষ্য স্থির করেন তার সন্তানদের কোরআনে হাফেজ বানাবেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহজাহান হাওলাদার নিজের পৈত্রিক ও মামা বাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করে ছেলে-মেয়েদের হাফেজ বানিয়েছেন। নির্মাণ করেছেন মসজিদ ও মাদ্রাসা। তার বড় ছেলে হাফেজ মাও. মজিবুর রহমান সৌদি প্রবাসি। অন্যরা সবাই দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাফিজি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা, মসজিদে ইমামতি ও ব্যবসা বানিজ্য করছেন। শাহজাহান হাওলাদারের ৬ ছেলে ও ৪ মেয়ে কোরআনে হাফেজ। তাদের বিয়ে হয়েও হয়েছে হাফেজা ও হাফেজদের সাথে। ছয় ছেলের ৩২ সন্তান ও ৪ মেয়ের ২৭ সন্তানও কোরআনে হাফেজ হয়েছেন। তাদের পরিবারে এখন হাফেজের সংখ্যা ৭৯ জন। এক বছরে আগে ছিল ৬৩ জন। এ পরিবারে যারা ছোট রয়েছেন তারাও হাফিজি পড়াশুনা করছেন।
শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে হাফেজ জোবায়ের হোসেন বিলবিলাস গ্রামে তার মায়ের নামে আমেনা খাতুন মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ‘বাবার স্বপ্ন ছিল আমরা ভাই বোনেরা হাফেজ হবো। আল্লাহ আমাদের হাফেজ বানিয়েছেন। এমনকি আমাদের স্ত্রী সন্তান ও নাতি-নাতনিরাও হাফেজ হয়েছেন। আগামী যত প্রজন্ম আসবে তাদেরও হাফেজ বানানো হবে। এই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব। আল্লাহ যেনো কবুল করেন।’
শাহজাহান হাওলাদার বলেন, ‘একজন হাফেজ পরিবারের ৭০ জনকে জান্নাতের জন্য সুপারিশ করতে পারবেন। আমি সাধারণ শিক্ষায় পড়াশুনা করায় হাফেজ হতে পারিনি। ভাবছি ছেলে-মেয়েদের হাফেজ বানাবো। তারা আমাকেসহ আমার মা-বাবা ও ভাইসহ পরিবারের লোকজনকে জান্নাতের জন্য সুপারিশ করতে পারেন। আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন। সন্তানদের সবাইকে হাফেজ বানিয়েছেন।তাদের স্ত্রী, স্বামী ও সন্তানরাও হাফেজ হয়েছেন। এটা দেখে যেতে পেরে আমি আনন্দিত। আল্লাহর দরবারে কোটি কোটি শুকরিয়া।’
কালাইয়া রাব্বানিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. এ এস এম আব্দুল হাই বলেন, ‘শাহজাহান হাওলাদার পরিবার এখন একটি দৃষ্টান্ত। তিনি নিজে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও পরিবারের সকল সদস্যদের পবিত্র কোরআনে হাফেজ করেছেন এটা বিরল।’
কোরআনের হাফেজদের সংগঠন হুফ্ফাজুল কোরআন বাউফল শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘একই পরিবারের সবাই হাফেজ। আমার কাছে মনে হচ্ছে শুধু দেশে না বিশ্বে দৃষ্টান্ত। আমরা এই পরিবারের আরো সাফল্য কামনা করছি।’