চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৫ ১৯:১৫ পিএম
প্রবা ফটো
চট্টগ্রামে ভোজ্যতেলের (খোলা) আমদানিকারক থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করেছে প্রশাসন। খোলা সয়াবিন তেল খুচরা বিক্রি হবে প্রতিলিটার ১৬০ টাকায়। এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দুপুরে নগরীর সার্কিট হাউসে ভোজ্যতেল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় নির্ধারিত দামের সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও একমত পোষণ করেন।
এর আগে গত সোমবার (৩ মার্চ) বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটের কারণ দেখতে দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে তদারকিতে যান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। বাজার তদারকিতে গিয়ে ‘ভোজ্যতেল উধাওয়ের’ সত্যতা পেয়ে তেল উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ীদের বৈঠকে ডাকেন তারা।
আয়োজিত এই বৈঠকেই সকলের মতামতের ভিত্তিতে আমদানিকারক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত খোলা তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- খোলা সয়াবিন তেল আমদানিকারকরা প্রতি লিটার ১৫৩ টাকা, ট্রেডার্সে ১৫৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ১৬০ টাকা বিক্রি করবে। যা আজ (মঙ্গলবার) থেকে কার্যকর হয়ে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। যেকোনো পর্যায়ে কেউ যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে তেলের দাম বেশি নেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটি ব্যবস্থা নিবে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন- চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এতে চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম, টি কে গ্রুপের পরিচালক জাফর আহমেদ চৌধুরী, সিটি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা এবং ভোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিশেষ টাক্সফোর্স সদস্যরা অংশ নেন।
সভায় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের বাইরে যেসব মুসলিম রাষ্ট্রগুলো আছে, সেগুলোতে রমজানে সওয়াবের উদ্দেশে ভর্তুকি দেয়। কম মূল্যে তারা পণ্য বিক্রি করে। কিন্তু বাংলাদেশে দেখা যায়, কিছু ব্যবসায়ীর কারণে রাতারাতি পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এই অসাধু ব্যক্তিদের কারণে রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বগতিতে থাকে। এমতাবস্থায় ভোজ্যতেলকে প্রাধান্য দিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত দামের বাইরে গিয়ে বেশি দামে কেউ বিক্রি করলে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি চসিক থেকেও বাজার মরিটরিং করা হবে।’
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট চলছে। সেটা কাটিয়ে ওঠার জন্য সবার সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- খোলা সয়াবিন তেল খুচরায় সর্বোচ্চ ১৬০ টাকায় বিক্রি করা যাবে। কেউ চাইলে এরচেয়ে কমেও বিক্রি করা যাবে। তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া যাবে না। এ সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো ব্যবসায়ী যদি খুচরা বা পাইকারি বাজারে বেশি দামে তেল বিক্রি করেন, তাহলে বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’