রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৫ ১৫:০০ পিএম
রাজশাহীর পবা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসান রাসেল। ছবি : সংগৃহীত
রিকশাচালককে মারধরের অভিযোগে রাজশাহীর পবা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসান রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৫ (প্রশাসন ও শৃঙ্খলা) শাখার এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন সচিব ড. মো. মহিউদ্দিন।
এদিকে এই ঘটনায় দায় স্বীকার করে নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন ওই কর্মকর্তা।
প্রজ্ঞাপনের কপি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, রিকশাচালককে নির্দয়ভাবে প্রহার করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের আচরণ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। সরকারি কর্মচারী হিসেবে তার এ ধরনের আচরণ অশোভনীয়, অসংগত, চাকরি শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, তাই সরকারি চাকরি আইন ও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী জাহিদ হাসান রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। জাহিদ হাসান বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, কোয়ার্টারের সামনে জাহিদ হাসান রাসেল এক রিকশাচালককে পায়ের জুতা খুলে পেটান। পরে প্রাইভেট কারের ব্যাকডালা থেকে লাঠি বের করে আঘাত করতে থাকেন। এ ছাড়া অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করতেও দেখা যায় তাকে।
ভিডিও ভাইরালের পর নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ঘটনার জন্য তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে লেখেন, ‘এমন ঘটনা কি আর কারও জীবনে ঘটেনি? আমি অন্যায় করেছি। কিন্তু এত বড় শাস্তি কি আমার পাওনা ছিল?’
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফিয়া আখতার এই ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছেন ইউএনও। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই জাহিদ হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করে মন্ত্রণালয়।