চট্টগ্রাম বন্দর
হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৩:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইঞ্জিন সংকটে কন্টেইনার পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্ট আইসিডিগামী কন্টেইনার জট এখনও কাটেনি। ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর কারণে গত দুই দিন জট কিছুটা কমলেও এখন বন্দরে ঢাকা আইসিডিগামী ১৭৫৬টি কন্টেইনার রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চাহিদা মতো ট্রেন না পাওয়ায় যথা সময়ে কন্টেইনার খালাস নিতে না পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এতে বাজারে পণ্যের সংকটের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সংকট খুব বেশি দিন থাকবে না। ইতোমধ্যে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এখন প্রতিদিন তিনটি করে ট্রেন চলাচল করছে। এভাবে কন্টেইনার পরিবহন হলে এক সপ্তাহের মধ্যে বন্দরে কমে যাবে আইসিডিগামী কন্টেইনার জট।
সিজিপিওয়াই ইয়ার্ডের মাস্টার আবদুল মালেক বলেন, আমরা আগে দিনে চারটি ট্রেন চালাতে পারতাম। কিন্তু ইঞ্জিন সংকটের কারণে গত এক মাস ধরে দিনে দুটি ট্রেন চালাতে পারছি। বিষয়টি নিয়ে লেখালিখি হওয়ার পর এখন অন্যদিক থেকে ম্যানেজ করে ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়েছি। গতকাল আর পরশু তিনটি ট্রেন চলাচল করেছে। আজও (রবিবার) ইতোমধ্যে আমরা দুটি ট্রেন পাঠিয়েছি। রাত সাড়ে ১১টায় আরও একটি ট্রেন কন্টেইনার নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, এভাবে নিয়মিত তিন-চারটি করে ট্রেন চালাতে পারলে কন্টেইনার জটের এই সংকট থাকবে না। আশা করছি, রমজানের আগেই এটি কেটে যাবে।
ঢাকাসহ সারা দেশের জন্য আমদানি করা পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর সেগুলো সড়ক পথে ট্রেইল, লরি পাশাপাশি রেলপথে পরিবহন করা হয়। রেলপথে কন্টেইনার পরিবহনের ক্ষেত্রে চিটাগং গুডস পোর্ট ইয়ার্ডে (সিজিপিওয়াই) লোডিংয়ের পর সেগুলো রেলপথে ঢাকার কমলাপুর আইসিডিতে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পণ্য পাঠানো হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে চারটি ট্রেনে সিজিপিওয়াই ইয়ার্ড থেকে ঢাকা আইসিডিতে কন্টেইনার পরিবহন করা হতো। কিন্তু গত এক মাস ধরে ইঞ্জিন সংকটের কারণে চাহিদা মতো ট্রেন পরিচালনা করতে পারছে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আগে যেখানে চারটি ট্রেন চলাচল করতো, সেখানে গত বেশ কিছুদিন ধরে একটি ট্রেন পরিচালনা করা হয়। এতে বন্দরে বাড়তে থাকে কমলাপুর আইসিডিগামী কন্টেইনার। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে লেখালেখি হওয়ার পর ইঞ্জিন বাড়িয়েছে রেলওয়ে। গত দুই-তিন দিন ধরে তিনটি ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এতে কন্টেইনার জট কাটতে শুরু করেছে বন্দরে। দুই-তিন দিন আগে যেখানে প্রায় ১৯০০ কন্টেইনার ছিল সেখানে এখন বন্দরে ঢাকা আইসিডিগামী কন্টেইনার আছে ১৭৫৬ কন্টেইনার। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আইসিডিগামী ২২৪ একক কন্টেইনার জাহাজ থেকে নামানো হয়। একই সময়ে বন্দর থেকে ঢাকা আইসিডিতে পাঠানো হয়েছে ১০১ একক কন্টেইনার।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, রেলের ইঞ্জিন সংকটের কারণে চাহিদা মতো ট্রেন চলাচল না করায় স্বাভাবিক সময়ে তুলনায় বন্দরে আইসিডিগামী কন্টেইনার বেড়েছে। বর্তমানে বন্দরে আইসিডিগামী ১৭৫৬টি কন্টেইনার রয়েছে। তবে গতকাল (শনিবার) থেকে ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়েছে রেলওয়ে। এখন প্রতিদিন আগের মতো ১৮০ থেকে ২০০ কন্টেইনার পরিবহন করা হচ্ছে। এভাবে পরিবহন করা হলে আগামী ছয়-সাত দিনের মধ্যে আইসিডিগামী কন্টেইনারের জট স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
আইসিডিগামী কন্টেইনারগুলোতে কী ধরনের পণ্য আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ কন্টেইনারে শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য পণ্য, পোশাক কারখানার কাপড়ও আছে।’
এসব পণ্য সঠিক সময়ে পৌঁছানো না গেলে বাজারে পণ্যের সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, পণ্যভর্তি কনটেইনারগুলো আটকে থাকলে আমদানিকারক তথা ভোক্তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ পণ্যের ডেলিভারি সময় বেশি লাগলে ডেমারেজ চার্জ বেশি আসবে। দিনশেষে এসব চার্জ ভোক্তার ওপর বর্তাবে।
তবে ভোক্তারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য বন্দরে ঢাকা আইসিডিগামী কন্টেইনার বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় এই পণ্য ভর্তি কন্টেইনারগুলো চট্টগ্রাম বন্দর এবং পানগাঁও টার্মিনাল থেকে খালাস করার সুযোগ দিয়েছে এনবিআর। এতে আমদানিকারকরা চাইলে ট্রেনে কন্টেইনার পরিবহনের পরিবর্তে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করে সড়ক পথে ঢাকায় পণ্যগুলো নিয়ে যেতে পারবেন।