ধোবাউড়া
ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:১৬ পিএম
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:২৫ পিএম
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহর থেকেই দেশব্যাপী শহীদ মিনারে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। তবে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় প্রথম নির্মিত শহীদ মিনারটি পড়ে আছে অয্ত্ন আর অবহেলায়। এমন বিশেষ দিনেও সেটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়নি। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাও জানানো হয়নি।
স্থানীয়রা জানানা, ধোবাউড়া সদর বাজারে পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এক সময়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অবস্থানÑ যা ১৯৫২ সালের ভাষা সৈনিকদের আত্মত্যাগের স্মৃতিচিহ্ন। শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর গর্বিত স্থান। সেই শহীদ মিনার রয়েছে অযত্ন অবহেলায়। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসেও তা পরিষ্কার করা হয়নি। দেওয়া হয়নি কোনো ফুল। শহীদ মিনারের চারপাশে স্থাপনা গড়ে উঠেছে। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ফেলা হয় ময়লা আর্বজনা। এখন দেখে মনে হয় সেটি যেন ময়লার ভাগাড়। বিষয়টি নিয়ে বার বার জানানো হয়েছে উপজেলা প্রশাসনকে। এরপর কয়েকবার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিষ্কার হয়নি শহীদ মিনারটি। সরজমিন দেখা যায়, শহীদ মিনারের দুপাশে দোকান ও বাসাবাড়ি। সামনের অংশ ফাঁকা। সেখানে আবর্জনার স্তূপ।
বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধোবাউড়া বাজারে ১৯৬৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১১০ টাকা ব্যয়ে আব্দুর রহিম, আবুল ফজল তালুকদার, মকবুল হোসেন খানসহ কয়েকজন উদ্যোগ নিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। শুরুতে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা এখানে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন। ১৯৯১ সালে বর্তমান উপজেলা পরিষদের পাশেই শহীদ মিনার নির্মিত হওয়ায় এটির গুরুত্ব হারায়। পরে পুরাতন শহীদ মিনারের দুই পাশঘেঁষে বাড়িঘর তৈরি হয়। পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে শহীদ মিনারটি। তখন থেকে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা।
শহীদ মিনারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফজল তালুকদার বলেন, ‘১৯৬৯ সালে আমরা তিনজন মিলে বালু সিমেন্ট দিয়ে এই শহীদ মিনার তৈরি করেছিলাম। উপজেলার এটাই প্রথম শহীদ মিনার। এখানে সব ধরনের অনুষ্ঠান হতো। এখন ময়লা ফেলে লোকজন। এসব দেখে অনেক কষ্ট লাগে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে কয়েকবার বলা হয়েছে। তারা বলেছেন দেখবেন।
ধোবাউড়া ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মুকুলের ভাষ্যÑ বিষয়টি জানার পর বাজারের লোকজনকে ময়লা ফেলতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু তারা কথা শুনছেন না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশাত শারমিন বলেন, লোকজন শহীদ মিনারটি সরিয়ে অন্যত্র স্থাপনের বিষয়ে জানিয়েছে। সমন্বয় সভায় সবার সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।