ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:২৭ পিএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:৩৩ পিএম
আলু তুলতে ব্যস্ত ঘোড়াঘাটের হাটপাড়া দুর্গাপুর গ্রামের কৃষকরা। প্রবা ফটো
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আলুর ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হলেও বাজারে দাম কম থাকায় বিক্রিতে লোকসান গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে হতাশ তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু জায়গায় আলু তোলা শুরু হয়েছে। কিন্ত বাজারে দাম কম, যা দিয়ে কৃষকের আলুর উৎপাদন খরচ পাওয়া বড় কঠিন। কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ ও সারের দাম অপরিবর্তনীয় থাকলেও কীটনাশক, শ্রমিক ও পানি সেচের খরচ অনেক বেশি হওয়ায় লাভের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এখন রমানা প্রতিমণ আলু ৫০০ টাকা আর পাকড়ি জাতের আলু ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন কৃষকরা। দুইমাস আগে যে আলু বিক্রয় করা হয়েছে প্রতি কেজি ৮০ টাকায়, সেই আলু উৎপাদনের পর বিক্রি এখন বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫-২০ টাকায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় মোট ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। অর্জন হয়েছে ২ হাজার ২৫০ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪০০ হেক্টর বেশি। এতে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলুর সরবরাহ আছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় আলুর দাম কমে গেছে। তাতে করে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা। আলুর দাম বেশি হলে সরকারের উপর যেমন চাপ থাকে, তেমনি আলুর দাম কম হলেও সরকারের উপর সাধারণ মানুষের চাপ থাকে।
এ বিষয়ে ভর্নাপাড়া গ্রামের কৃষক মাহাতাব উদ্দিন, কৃষ্ণরামপুর গ্রামের শাজাহান মিয়া, মমিন, মনোয়ার মুন্সী ও আরও অনেকে বলেন, এক হাজার টাকা প্রতিমণ আলু বিক্রি হলে কোনো মতে উৎপাদন খরচ পাওয়া যেত।
উপজেলার হাটপাড়া দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক সোহরাব মণ্ডল জানান, তিনি এবার ৫০ শতাংশ জমিতে পাকড়ি আলু আবাদ করেছেন। বাজার দর হিসাবে ৭০০ টাকা মণ বিক্রি করতে পারবেন। তাতে তার খরচই তুলতে পারবেন না। দাম নিয়ে তিনি খুব হতাশ। তিনি সরকারের কাছে আবেদন করেছেন যেন এমন ব্যবস্থা করা হয়- কৃষকরা ক্ষতির শিকার না হয়।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন, এ বছর আবহাওয়া আলু চাষের অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। ইরি মৌসুমে চাষের খরচ মেটানোর জন্য এবং আলু তোলার পুরো মৌসুম জুড়ে চলমান থাকায় বাজারে ব্যাপক সরবরাহের কারণে দাম কম।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লোকজন কৃত্রিম উপায়ে আলু সংরক্ষণ করে আস্তে আস্তে বিক্রয় করার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। সরকার ফসলের উৎপাদন বেশী হলেও কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। আশা করছি পরবর্তী বছর থেকে উৎপাদন বেশি বা বাজারে সরবরাহ বেশি হলেও দামের একটা নির্দিষ্ট নির্ধারণ থাকবে। যাতে কৃষকরা উৎপাদন বা বাজারে ফসলের সরবরাহ বেশি থাকলেও উপযুক্ত দাম পায়। এছাড়াও সরকারি ভাবে কোল্ড স্টোরেজ করার পরিকল্পনা চলছে যাতে স্বল্প খরচে আলু মজুদ করে রাখতে পারেন কৃষকরা।