চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৬:৫৯ পিএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৭:৪৮ পিএম
বুধবার চেয়ারম্যানকে চকরিয়া আদালতে তোলা হলে আদালত সড়কে এ মানববন্ধন হয়। প্রবা ফটো
চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার থেকে কক্সবাজারের চকরিয়া সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নবী হোছাইনকে আটকের পর চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে চেয়ারম্যানের কলোনির শৌচাগার থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার দেখানোকে পুলিশের সাজানো নাটক বলে দাবি করেছেন হাজারো নারী-পুরুষ। নতুন করে দায়ের করা অস্ত্র মামলায় তাকে আসামি না করা ও মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তারা।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চেয়ারম্যান নবী হোছাইনকে চকরিয়া আদালতে তোলা হলে আদালত সড়কে এ মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারীদের দাবি, চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছে চকরিয়া থানা পুলিশ। সেই নাটককে বাস্তবে রূপ দিতে রবিবার রাত ৩টার দিকে বাড়িতে গিয়ে সেই অস্ত্র উদ্ধারের নাটক মঞ্চস্থ করে পুলিশ। এ সময় বাড়িতে থাকা নারী সদস্যদের শারীরিকভাবে মারধর করে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে মর্মে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে।
এ সময় চিংড়িজোনের আবদুল মালেক বাবু, কামাল উদ্দিনসহ একদল স্বশস্ত্র ডাকাতও পুলিশের সঙ্গে ছিল বলে আক্রান্ত নারীরা দাবি করেছেন। সর্বশেষ পুলিশ ঘণ্টাব্যাপী কথিত অস্ত্র উদ্ধার নাটক সাজিয়ে পুলিশ চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে চলে আসে। এর আগে রবিবার বিকাল ৪টার দিকে একদল পুলিশ চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের নামে পুরো বাড়ি তল্লাশি চালালেও কোনো অস্ত্র বা অবৈধ কিছু পায়নি। এ কারণে পরে পুলিশ ভোরে কথিত অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজায় বলে দাবি তাদের।
তাদের দাবি, পুলিশ চেয়ারম্যান নবী হোসাইন চৌধুরীর বাড়ি থেকে যে দুটি দেশীয় তৈরি লম্বা কাটা বন্দুক, এলজি ও ৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। এসব আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাসী আব্দুল মালেক বাবু ইতোপূর্বে চিংড়িজোনে ডাকাতিসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে এসেছিল। এসব অপরাধে ওইসব অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে বাবুর হাতে অস্ত্রসহ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এমনকি প্রায় বছরখানেক আগে এলিট ফোর্স র্যাবের হাতে আবদুল মালেক বাবু, কামালসহ তাদের একাধিক ভাই আটক হয়। এর পর অনেকদিন তারা জেলহাজতে থাকতে হয়। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী দেশের পটপরিবর্তনের সুযোগে তারা জামিনে বের হয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে থাকে। তাদের এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে স্থানীয় চেয়ারম্যান ডাকাত-সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা রোধে তৎপর হলে যেকোনো উপায়ে তাকে হত্যা করার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র, মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করে আসছিল। এর জেরে চকবাজার থানা থেকে চেয়ারম্যানকে চকরিয়া থানায় হস্তান্তরের পর অস্ত্র উদ্ধার নাটক সাজানো হয়। থানা হেফাজতে থাকাকালীন চেয়ারম্যানকে মারধর করা হয় বলেও মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারীদের দাবি।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ‘অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন’ বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।