খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১১:২১ এএম
আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৩:৩৯ পিএম
স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কমিউনিটি ক্লিনিকের একজন (সিএইচসিপি) স্বাস্থ্যকর্মী। প্রবা ফটো
দেশের গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় কমিউনিটি ক্লিনিকের গুরুত্ব রয়েছে। সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক ১৪ হাজারের বেশি। এসব ক্লিনিকে দেওয়া হয় ১৬ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা। সেবাগ্রহীতারা একেবারেই প্রান্তিক মানুষ। দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই কমিউনিটি ক্লিনিক। বিশেষ করে মাতৃমৃত্যু রোধ, ভাইরাস ও ফ্লু নিয়ন্ত্রণ, শিশু সুরক্ষায় টিকা এবং ক্যানসার সচেতনতায়।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় নেতৃত্বে দেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার
(সিএইচসিপি) নামের স্বাস্থ্যকর্মীরা। দেশের স্বাস্থ্যখাত ঠিক রাখতে দিনরাত এক করে কাজ
করলেও প্রতিষ্ঠানটির নিজেদের স্বাস্থ্যই নাজুক।
গত সাত মাস ধরে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলার ৩১৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকে
কর্মরত হেলথ কেয়ার প্রভাইডাররা (সিএইচসিপি) মাসিক বেতন পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে বেতন
না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। কবে নাগাদ বেতন পাবেন এই
বিষয়ে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি।
খানসামা উপজেলার হোসেনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধিতে বর্তমান সময়ে আমাদের সামান্য বেতন দিয়ে খুব কষ্টে সংসার চালাই। তার ওপর আবার গত সাত মাস ধরে বেতন বন্ধ। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়ে গেছি। অনেক সিএইচসিপি বেতন ভাতা না হওয়ার দূচিন্তায় ভোগছেন। দ্রুত এর সমাধান দরকার, কারণ নিরুপায় হয়ে গেছি।’
বীরগঞ্জ উপজেলার কালিমেলা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি কালিদাস সরকার বলেন, ‘সাত মাস ধরে কোনো ধরনের বেতন ভাতা পাচ্ছি না, এর মধ্যে পূজা গেল, তখনও কোনো ধরনের আর্থিক ভাতা আমাদের দেওয়া হয়নি। আমাদের যতটুকু সঞ্চয় ছিল, সেটি দিয়েই এতদিন ধরে পরিবার নিয়ে টিকে আছি। এখন আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।’
কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রভাইডার (সিএইচসিপি) এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা
শাখার সভাপতি মোরশেদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘জেলার ৩১৫
কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিদের একই অবস্থা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ করেও
কোন সুরাহা পাচ্ছি না। হচ্ছে, হবে বলেই দিন পার হচ্ছে। তাই সরকারের প্রতি অনুরোধ আমাদের
কষ্টের কথা বিবেচনা করে দ্রুত বেতন প্রদানের জন্য অনুরোধ করতেছি।’
এ বিষয়ে দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আসিফ ফেরদৌস বলেন, ‘সিএইচসিপিদের
বেতন বন্ধ থাকায় আমরা ব্যথিত। এটি সারা দেশেই একই চিত্র। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য
সরকারের উচ্চপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত জানানো হচ্ছে।’
জানা গেছে, গ্রামের দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, স্বাস্থ্য
শিক্ষা ও জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ প্রদান কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন
ছিল মূল উদ্দেশ্য। কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সিএইচসিপিরা গত ২০১১ সালে এ প্রকল্প শুরু
হয়ে ২০১৬ সালের ১৪ জুনে মেয়াদ শেষ হয়। এরপর তিন দফা প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলেও
বেতন বৃদ্ধি হয়নি।
গত বছরের জুলাই মাস থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না তাদের।
এই অবস্থায় ঢাকায় আন্দোলনে গত বছরের ২০ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার সিএইচসিপিদের চাকরি
রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের আশ্বাস দেয়। আশ্বাসের পর প্রকল্প বা রাজস্ব খাত কোনোটা থেকেই
তাদের বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়নি। এতে সাত মাস ধরে তারা কোনো বেতন পাননি, এমনকি প্রণোদনা
ভাতাও পাননি তারা।