চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৫:৩৩ পিএম
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৫:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে আগুনের ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিন জন। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন ভলুয়ারদীঘির পশ্চিমপাড় এলাকায় জাফর সওদাগর কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রামের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত ব্যক্তিরা হলেনÑ মোহাম্মদ ইলিয়াস (৫২) ও তার স্ত্রী পারভিন আক্তার (৪৫)। ইলিয়াস পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান বলে জানা গেছে।
তাদের ছেলে শাহীন (২১) ও মেয়ে সোহান (১৯) এবং নিকটাত্মীয় ফয়সালকে (৩৫) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই কলোনীর টিনশেডের ঘরগুলোতে আগুন লাগার পর আশপাশের সেমিপাকা ঘরগুলোর বাসিন্দারা সবাই বেরিয়ে রাস্তায় চলে যান। কিন্তু হতাহত পাঁচজন ঘর থেকে বের হতে না পেরে ঘরের বাথরুমে আটকা পড়েন। আগুন নিভিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ফিরে যাওয়ার সময় জানতে পারেন পাশের একটি সেমিপাকা ঘরে পাঁচজন আটকে আছেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পাঠানোর কিছুক্ষণ পর কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর তিনজনকে হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সেখানে চিকিৎসাধীন।
আব্দুল মান্নান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি স্টেশন থেকে চারটি ইউনিটে কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে পাঁচটি বসতঘর পুড়লেও ওইসব ঘরের বাসিন্দাদের কেউ হতাহত হয়নি। সামনের আরেকটি বসতঘরে থাকা পাঁচজন ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বাথরুমে পানি থাকায় আগুনের ধোঁয়া থেকে বাঁচতে সম্ভবত পাঁচজন একসঙ্গে একই বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আমরা তাদের অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করি। তারা যদি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতেন, তাহলে শ্বাসরোধ হতো না।’