চাঁপাইনবাবগঞ্জে লংমার্চ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২১:৩২ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে গরু জবাই করে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার পাইলিংমোড় এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, গরু জবেহের মাধ্যমে ভারতীয়দের আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি হিন্দুত্ববাদী সকল ষড়যন্ত্রের অবসান করা হবে। পরে সন্ধ্যায় সীমান্তে বিএসফের বুলেটে নিহতদের নামসংবলিত ফানুস ওড়ানো হয়।
সীমান্তে হত্যা ও ফারাক্কার ন্যায্য পানি হিস্যার দাবিতে শনিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ অভিমুখে লংমার্চ শুরু হয়। পরদিন সকালে শিবগঞ্জের মডেল হাইস্কুল মাঠে ৬টি বাস পৌঁছে। এসব বাসে করেই লংমার্চে দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ অংশ নেয়। সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। মিছিলটি হাইস্কুল থেকে পাইলিংমোড় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে একটি গরু জবাইয়ের মাধ্যমে লংমার্চের অধিকাংশ কর্মসূচি শেষ হয়। বাংলাদেশের জনগণের ব্যানারে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশের জনগণ সংগঠনের মুখপাত্র আবু মোস্তাফিজ, আমজনতার নেতা মাসুদ জাকারিয়া, শহিদুল হক মিন্টু, তারেক রহমান, কর্নেল (অব.) মিয়া মশিউজ্জামান, হেফাজতে ইসলামের রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমরান উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আতিকুর রহমান, প্রচার সম্পাদক নাইমুল হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মোহাম্মদ ইসহাক প্রমুখ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
তারা বলেন, কাঁটাতারে ঝুলন্ত শুধু ফেলানীর লাশের ছবি নয়, এই ছবি যেন কাঁটাতারে বিদ্ধ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব। বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ফলে ফেলানীসহ অসংখ্য ভাইবোন বিএসএফের বুলেটে শহীদ হয়েছেন। তাই নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ও রাজনীতিকদের ভারত তোষণনীতির বিরুদ্ধে আমাদের এই লংমার্চ।
তারা আরও বলেন, ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে ভারত আমাদের পানির ন্যায্য প্রাপ্য থেকেও বঞ্চিত করেছে। এভাবে আর চলতে দেওয়া হবে না। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ এখন সোচ্চার। আগামী দিনে ভারতীয় যেকোনো আগ্রাসন প্রতিরোধ করা হবে।
আমজনতার সংগঠনের সদস্য সচিব তারেক রহমান বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জবাসী বিএসএফের মুখোমুখী হয়ে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। তাদের এই সাহসে অনুপ্রাণিত হয়ে সাধুবাদ জানাতে এসেছি। আমারও তাদের থেকে শিক্ষা নিতে এখানে লংমার্চে এসেছি। লংমার্চের কর্মসূচি হিসেবে একটি গরু জবেহ করা হয়েছে। ভারত গরু রাজনীতির মধ্য দিয়ে মুসলিমদের নিপীড়ন করে। গরু খাওয়ার অপরাধে মুসলিমকে মারধর করে। এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের এই জিয়াফত। এই জিয়াফত ঐতিহ্যবাহী একটি সংস্কৃতি।
তিনি আরও বলেন, গরু জবেহের মাধ্যমে লংমার্চের আংশিক কর্মসূচি শেষ হয়। সন্ধ্যায় সীমান্তে বিএসফের বুলেটে নিহতদের নামসংবলিত ফানুস ওড়ানো হয়। এসব ফানুস ভারতীয় ভুখণ্ডে পড়বে। তখন তারা জানতে পারবে আমাদের এই ভারতীয় আগ্রাসের প্রতিবাদ সম্পর্কে।
ক্যাপশন: ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে লংমার্চ ও গরু জবাই করে জিয়াফত। রবিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের পাইলিংমোড় এলাকায়