কলাপাড়া হাসপাতাল
গোফরান পলাশ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:২৮ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:৩৫ পিএম
মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন। প্রবা ফটো
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় হঠাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। অসুস্থ রোগীরা সুস্থ হতে হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাদের দেওয়া হচ্ছে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার স্যালাইন। এতে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দাবি, ভুলে রোগীদের মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর সব মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন ও ওষুধ সরানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কলাপাড়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে শিশুদের জন্য ১০টি
বেড রয়েছে। শীত মৌসুম শুরুর পর থেকে উপজেলায় ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।
কিন্তু রোগীদের সুস্থ করতে যেখানে সেবিকা ও চিকিৎসকদের সচেতন থাকার কথা উল্টো তাদের
দায়িত্বহীনতা ও অসচেতনতায় রোগীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। গত দুই দিন ধরে (বুধ-বৃহস্পতিবার)
হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের খাবার স্যালাইন দেওয়া হলেও তা মেয়াদ উত্তীর্ণ। অধিকাংশ
স্যালাইনের মেয়াদ ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। বিষয়টি খেয়াল না করায় রোগীর
স্বজনরা এ স্যালাইন রোগীদের খাওয়ানোয় অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে
স্যালাইন খেয়ে রোগী অসুস্থের বিষয়টি জানাজানি হলে স্বাস্থ্য বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়।
দ্রুতই হাসপাতালের কর্মচারীরা রোগীদের কাছ থেকে গোপনে স্যালাইনগুলো সরিয়ে নিয়ে বিষয়টি
ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগীর স্বজনরা জানায়, স্যালাইন খাওয়ানোর
পরই শিশুদের বমি ও পেটে ব্যথা শুরু হয়। শিশুরা কান্নাকাটি শুরু করে। তারা প্রথমে এর
কারণ বুঝতে না পারলেও পরে স্যালাইনের মেয়াদ উত্তীর্ণের বিষয়টি তাদের চোখে পড়ে।
স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে স্যালাইন ছাড়া আর কোনো ওষুধই রোগীদের দেওয়া হয়
না। প্রেসক্রিপশনের বেশিরভাগ ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হয়, টেস্ট করাতে হয় ডাক্তারদের
নির্দেশিত ল্যাব থেকে।
কলাপাড়া হাসপাতালের স্টোর ইনচার্জ মোর্শেদ বলেন, ‘মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইনগুলো
রোগীদের ভুলে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেগুলো রোগীদের কাছ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।’
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. জেএইচ খান লেলিন বলেন, রোগীদের দেওয়া
স্যালাইনের মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিল, এটি সেবিকারা খেয়াল করেনি। এটা ভুলে রোগীদের দেওয়া
হয়েছে। বিষয়টি জানার পর হাসপাতালের স্টোরের সব মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ও স্যালাইন সরানোর
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত জানুয়ারি মাসে কলাপাড়া হাসপাতালের আউটডোরে ৭০১৩ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ১৩৬৫ জন, ভর্তি হয়েছে ৮৯২ রোগী।