কমিউনিটি ক্লিনিক
চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:১৯ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:৩৬ পিএম
উন্নয়ন খাত থেকে রাজস্ব খাতে চাকরি স্থানান্তর নিয়ে জটিলতায় রাজশাহী উপজেলার ২৩২ কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা টানা সাত মাস বেতন পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে বেতনভাতা না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও জানান তারা।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। উপজেলার খোর্দগোবিন্দপুর
ক্লিনিকের সিএইচসিপি জাকিয়া নাসরিন বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে সামান্য
বেতন দিয়ে টেনেটুনে সংসার চালাই। তারপর আবার গত তিন মাস থেকে সেটিও বন্ধ। দোকানদাররা
আর বাকিতে জিনিস দিতে চাচ্ছেন না। কী যে বিপদে রয়েছি, কাউকে বলে বোঝাতে পারব না।
ঝিকরা ক্লিনিকের সিএইচসিপি আক্তার বানু বলেন, প্রতিদিন শত শত রোগীকে সেবা দিচ্ছি,
কিন্তু নিজেরাই দারিদ্র্যের শিকার। সাত মাস ধরে কোনো বেতন পাইনি, ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছি।
পার্শ্ববর্তী বাঘা উপজেলার ক্লিনিকের সিএইচসিপি খাতিরা আহমেদ বলেন, সংশ্লিষ্ট
বিভাগের গাফিলতির কারণে গত সাত মাস ধরে বেতনভাতা পাচ্ছি না। চরম হতাশার মধ্যে রয়েছি।
কারণ চাকরির ওপর নির্ভর করেই সংসার চলে। দ্রুত বেতনভাতা না দিলে পরিবার-পরিজন নিয়ে
পথে বসতে হবে।
দুর্গাপুরের বন্ধনপুর ক্লিনিকের সিএইচসিপি মাসুদ রানা বলেন, সাত মাস ধরে বেতনভাতা
বন্ধ। ৬ সদস্যের পরিবারের একমাত্র আমিই উপার্জন করি, বেতন না পাওয়ায় সংসারে নেমে এসেছে
অভাব-অনটন। অভাব ঘোচাতে প্রতিনিয়িত হিমশিম খেতে হচ্ছে। খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি।
কমিউনিটি ক্লিনিকে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ডিউটি করায় অন্য কাজও করতে পারছি না।
তাদের মতো জেলার নয় উপজেলায় বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত ২৩২ জন সিএইচসিপি
পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জেলা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপ্রাইটর সমিতির
সভাপতি সাইম হাসান বলেন, বিধি অনুযায়ী উন্নয়ন খাত থেকে চাকরি রাজস্ব খাতে যেতে স্বাস্থ্য
ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের গাফিলতির কারণে
যা গত সাত মাসেও হয়নি। এ কারণে জেলার ২৩২ জন হেলথ কেয়ার প্রোপ্রাইটর বেতনভাতা পাচ্ছেন
না। অনেকেই ছেলেমেয়েদের পড়ার খরচ, পরিবারের অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ
কিনতে পারছেন না।
রাজশাহীর ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা সরকারের কাছে দ্রুত বেতনভাতা পরিশোধের
দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, আমরা মানুষের সেবা দিচ্ছি, কিন্তু নিজেরাই অসহায়। দ্রুত
যদি এই সমস্যা সমাধান না হয়, তাহলে কর্মবিরতির মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব।
জেলা সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবা খাতুন বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের
স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জটিলতার কারণে সাত মাস ধরে বন্ধ আছে।
বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অবগত করা হয়েছে, দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
দেশে ১৪ হাজার ৩২০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয় ১৯৯৮ সালে। সে বছর প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ১০ হাজার ৭৩২টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়। পরে ২০০৯ সালে পাঁচ বছর মেয়াদে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়। দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় কমিউনিটি ক্লিনিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।