× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প

যত্রতত্র আবর্জনা ফেললে জরিমানা-শাস্তির পরামর্শ উপদেষ্টার

চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৫৭ পিএম

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২১:১৩ পিএম

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক। প্রবা ফটো

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক। প্রবা ফটো

যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলতে নগরবাসীকে সচেতন করার নির্দেশনা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এরপরও সচেতন না হলে পরবর্তীতে জরিমানা ও শাস্তি দেওয়া যায় কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ভেবে দেখতে হবে।

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত চার উপদেষ্টা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, আগামী বর্ষায় যাতে চট্টগ্রামের জনগণ এই জলাবদ্ধতা প্রকল্পের সুফল পান, (সেভাবে কাজ চলছে)। এটার পরিপূর্ণ সুফল হয়তো এখন পাবে না। কিন্তু কাজ যখন শুরু হয়েছে, ধারাবাহিকতায় এই জলাবদ্ধতা নিরসন হবে বলে আমি আশাবাদী।

সরকারের প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা বাজেট ঘাটতি রয়েছে জানিয়ে ফারুক ই আজম বলেন, এটা (বাজেট) নানান দিক থেকে বিভিন্নভাবে আমাদের ম্যানেজ করতে হচ্ছে। বাজেট স্বল্পতা থাকলেও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্প সরকারের অগ্রাধিকার রয়েছে। তাই প্রতি সপ্তাহে উপদেষ্টা পরিষদের কোনো না কোনো একজন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি দেখতে চট্টগ্রাম আসবেন। আপনাদের কাজের ফিরিস্তি নেওয়ার জন্য নয়, আমরা যাতে সীমাবদ্ধতাগুলোকে চিহ্নিত করতে পারি। সেগুলো যেন দ্রুত সময়ে সমাধান করতে পারি সেজন্যই আসা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে আমরা জনসম্পৃক্ততা ও সফলতা পাব। 

উপদেষ্টা বলেন, প্রথমে সচেতনতা, তারপর সতর্কতা, এরপর শাস্তি। এভাবে যদি এগিয়ে যাওয়া যায়, আশা করি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পাওয়া যাবে। নগরে বসবাসকারী যে সমস্ত পরিবার শতভাগ কমপ্লায়েন্স মেনে চলবে, তাদের পুরস্কৃত করা যেতে পারে। এগুলো যারা মান্য করবে না, তাদের তিরস্কার এবং জরিমানা করা যায়। যারা কোনভাবেই মানবে না তাদের দুয়েকজনকে জেলও দিতে পারি। তাহলে ময়লা যত্রতত্র ফেলবে না।

ফারুক-ই-আজম বলেন, শহরটা আগের তুলনায় পরিচ্ছন্ন মনে হচ্ছে। যতটুকু ভালো কাজ হয়েছে প্রথমে সেটার মূল্যায়ণ করেন। পরে বাকি যে প্রতিবন্ধকতাগুলো আছে, সেগুলো আমরা এড্রেস করব। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সকল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের যে সমন্বয়ের সৃষ্টি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা যাতে কোনভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি সে দিন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেছিলাম। এখানকার বর্জ্য ব্যপস্থাপনার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রিসাইক্লিং প্রজেক্ট অর্থাৎ ময়লাটাকে যদি সম্পদে পরিণত করতে পারি, তাহলে স্থায়ীভাবে প্লাস্টিক, পলিথিন, কর্কশিট কেউ আর খাল-নালায় ফেলবে না। এই জায়গায় আমি উনাকে (প্রধান উপদেষ্টা) এড্রেস করেছি। একটা প্রকল্পের বিষয়ে জানিয়েছি। সেটা পিপিপির মাধ্যমে হচ্ছে। আমার মনে হয়, আপনিও যদি উনার সাথে আলোচনা করেন আর এই প্রকল্পটি যদি দ্রুত হাতে নেওয়া যায়, তাহলে আমরা এই জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হব। 

খাল পরিষ্কারের জন্য ১০০ কোটি বরাদ্দের বিষয়ে মেয়র বলেন, সিটি করপোরেশনে যোগ দিয়ে নালা-খাল পরিদর্শনে গেলাম। এসব নালা-খাল পরিষ্কারের জন্য কম করে হলেও ১০০ কোটি টাকা লাগবে। আমরা ১০০ কোটির মধ্যে সম্ভবত ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই টাকাটা এখনও পাওয়া যায়নি। এটার গুরুত্বটা কেউ বুঝতে চাইছে না।

এ সময় সিডিএ চেয়ারম্যান নুরুল কবির বলেন, ২০২৬ এর জুনে ৩৬টা খালের কাজ শেষ হতে পারে। এর পর একসাথে যদি এই ৩৬টা খাল একেবারে সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেই, তাহলে সিটি করপোরেশনের জন্য এটা ম্যানেজ করা ডিফাকাল্ট (কষ্ট) হয়ে যাবে। আমার মনে হয়, আমরা পর্যায়ক্রমে খালগুলো বুঝিয়ে দিলে এবং সরকার যদি সিটি কর্পোরেশনের ক্যাপাসিটি বিল্ডআপ করে তাহলে কাজটা সহজ হবে।

সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ বলেন, আমাদের প্রকল্পের ভৌত কাজের অগ্রগতি ৭৭ শতাংশ। চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু প্রাইমারি খালের নেটওয়ার্ক তৈরি করলে হবে না, এটার সাথে টারশিয়ারি সেকেন্ডারি যে খালগুলোর কানেকশন রয়েছে সেগুলোর জন্য সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে আমাদের কাজ চলছে।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার পাশা, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম ও চসিকের প্রধান নির্বাহী শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা